<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>অপরাধ &#8211; amadersomoy.net</title>
	<atom:link href="https://amadersomoy.net/archives/category/%e0%a6%85%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a7/feed" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://amadersomoy.net</link>
	<description>আমাদের সময়</description>
	<lastBuildDate>Mon, 25 Aug 2025 02:18:55 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.9</generator>
	<item>
		<title>স্বাস্থ্যের কেনাকাটায় বড় অনিয়ম</title>
		<link>https://amadersomoy.net/archives/24634</link>
					<comments>https://amadersomoy.net/archives/24634#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Masteradmin]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 25 Aug 2025 02:18:55 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[2ndlead]]></category>
		<category><![CDATA[অপরাধ]]></category>
		<category><![CDATA[শিরোনাম]]></category>
		<category><![CDATA[স্বাস্থ্যের কেনাকাটায় বড় অনিয়ম]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://amadersomoy.net/?p=24634</guid>

					<description><![CDATA[বলা হয়ে থাকে—‘স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল’। অথচ বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় সেই স্বাস্থ্য খাতই যেন ‘সব অনর্থের মূল’-এ পরিণত হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনা, নিম্নমানের সরঞ্জাম সরবরাহ, বিপুল সরঞ্জাম দিনের পর দিন গুদামে পড়ে থেকে নষ্ট হওয়া, পণ্য বুঝে না পেয়েও ঠিকাদারের অর্থ পরিশোধ, প্রতিযোগিতা ছাড়াই একক দরদাতার মাধ্যমে কেনাকাটাসহ নানা অনিয়মে জর্জরিত জাতীয় বাজেটে [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>বলা হয়ে থাকে—‘স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল’। অথচ বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় সেই স্বাস্থ্য খাতই যেন ‘সব অনর্থের মূল’-এ পরিণত হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনা, নিম্নমানের সরঞ্জাম সরবরাহ, বিপুল সরঞ্জাম দিনের পর দিন গুদামে পড়ে থেকে নষ্ট হওয়া, পণ্য বুঝে না পেয়েও ঠিকাদারের অর্থ পরিশোধ, প্রতিযোগিতা ছাড়াই একক দরদাতার মাধ্যমে কেনাকাটাসহ নানা অনিয়মে জর্জরিত জাতীয় বাজেটে সরকারের সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাওয়া ১০ খাতের একটি এই স্বাস্থ্য খাত। এতে শুধু যে সরকারি বিপুল অর্থের অপচয় হচ্ছে তা নয়, চিকিৎসাসেবার মানের অবনমন ও রোগীর নিরাপত্তাও হুমকির মুখে ফেলছে।</p>
<p>স্বাস্থ্য খাতের অপচয়, অনিয়ম আর দুর্নীতির এই অভিযোগ নতুন নয়, তবে এবার খোদ সরকারি একটি সংস্থার প্রতিবেদনে এই খাতের কেনাকাটায় নানা অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। সরকারি ক্রয় কর্তৃপক্ষ ‘বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ)’ সম্প্রতি সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও অবাধ প্রতিযোগিতা নিশ্চিতকরণে স্বাস্থ্য খাতের কেনাকাটা পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন তৈরি করেছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) অধীন বিপিপিএর ওই প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য খাতের কেনাকাটায় নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ মিলেছে।</p>
<p>প্রতিবেদন তৈরিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ৫টি অপারেশন প্ল্যানের আওতায় ৩০টি ক্রয়চুক্তি বিশ্লেষণ করেছে বিপিপিএ। ক্রয়োত্তর চুক্তিগুলোর বিভিন্ন ধরনের কেনাকাটা, পদ্ধতি, ক্যাটাগরি, চুক্তির মূল্য এবং সরকারি ও উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নকৃত অপারেশন প্ল্যান পর্যালোচনা করা হয়। মাত্র ৩০টি চুক্তির পর্যালোচনায় বেরিয়ে এসেছে কোটি টাকার অনিয়ম ও অপচয়ের চিত্র।</p>
<p>বিপিপিএর প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেনাকাটায় গুরুতর ত্রুটি চিহ্নিত হয়েছে, যা কেনাকাটায় অস্বাস্থ্যকর চর্চার ইঙ্গিত দেয়। উল্লেখযোগ্য অনিয়মের মধ্যে রয়েছে—প্রয়োজন না থাকলেও যন্ত্রপাতি কেনা, নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ, যন্ত্রপাতি স্থাপন না করে গুদামে ফেলে রাখা, কম দামি ও নিম্নমানের সরঞ্জাম কেনা, আন্তর্জাতিক টেন্ডারের অযৌক্তিক ব্যবহার, একই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাধিক চুক্তি, পণ্য বিতরণে অস্বাভাবিক বিলম্ব এবং সরবরাহের আগেই বিল পরিশোধ।</p>
<p>প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মাঠ পরিদর্শন ও সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ক্রয়চুক্তিতে ত্রুটির পাশাপাশি কিছু পণ্য প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও কেনা হয়েছে, আবার কিছু যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হলেও হয়নি স্থাপন এবং দিনের পর দিন গুদামে ফেলে রাখায় নষ্ট হয়েছে। এসব পর্যবেক্ষণ ইঙ্গিত দেয় যে অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ক্রয়কৃত পণ্যের কার্যকর, দক্ষ ও সাশ্রয়ী ব্যবহারে অগ্রাধিকার জরুরি।</p>
<p>উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুই টন ক্ষমতার দুটি এয়ার কন্ডিশনার সরবরাহ করা হলেও সেগুলো এখনো ইনস্টল (স্থাপন) করা হয়নি। স্টোরে (গুদামে) ফেলে রাখায় পোকামাকড়ের উপদ্রবে একটি এয়ার কন্ডিশনার এরই মধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে। অপারেশন থিয়েটার রুম এবং ডেলিভারি রুমের জন্য এয়ার কন্ডিশন দুটি সংগ্রহ করা হলেও সেখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) আগে থেকেই ছিল। এতে বোঝা যায়, প্রকৃত প্রয়োজন যাচাই ছাড়াই এসি কেনা হয়েছে।</p>
<p>একইভাবে, ইউনানী মেডিকেল কলেজে ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকার কাঁচামাল ও কয়েকটি ল্যাবরেটরি যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়। অথচ সেগুলো কলেজ কর্তৃপক্ষের চাহিদায় ছিল না। নিম্নমানের কারণে সরবরাহকৃত যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করে সংরক্ষণাগারে ফেলে রাখা হয়েছে। নিম্নমানের কারণে ইউনানী মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ সেগুলো গ্রহণ না করলেও সরবরাহকারীকে অর্থ পরিশোধ করে দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।</p>
<p>বিপিপিএ বলছে, আলোচ্য দুটি ঘটনা এটাই প্রমাণ করে যে, প্রয়োজনীয়তা যাচাই ছাড়াই এসব সরঞ্জাম কেনা হয়েছে। ফলে জনস্বার্থে অর্থ ব্যয়ের পরিবর্তে তা অব্যবহৃত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে যথাযথভাবে চাহিদা মূল্যায়ন না করে পণ্য কেনায় সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে।</p>
<p>পণ্য সরবরাহের আগে অর্থ পরিশোধ: বিপিপিএর প্রতিবেদন বলছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নির্বাচিত ৩০টি চুক্তির মধ্যে ৯টির ক্ষেত্রে পণ্য সরবরাহের আগেই সরবরাহকারীকে অর্থ প্রদান করা হয়েছে। এমনকি পরিদর্শন টিম একটি পণ্য প্রত্যাখ্যান করলেও বিল পরিশোধ করা হয়েছিল। আরেকটিতে পরিদর্শন টিমের অনুমোদনের আগেই বিল পরিশোধ করা হয়। এতে সরবরাহে অস্বাভাবিক বিলম্ব এবং সরকারি অর্থ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।</p>
<p>প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মহাখালীর অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ (এনসিডিসি) কার্যালয়ের জন্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘বায়োসিস টেকনোলজিস’ থেকে ডিজিটাল অটোমেটেড আর্ম ইন বিপি মেশিন এবং ‘আজমীর ইন্টারন্যাশনাল’ থেকে ডিজিটাল বিপি মেশিন ও ডিজিটাল ব্লাড গ্লুকোমিটার কেনার চুক্তি করা হয়। কিন্তু চুক্তিবদ্ধ পণ্যগুলো সম্পূর্ণ সরবরাহের আগেই অর্থ প্রদান করা হয়েছিল। ওই সময়ে ‘বায়োসিস টেকনোলজিস’ ১২০ পিস বিপি মেশিনের মধ্যে মাত্র ১৪ পিস সরবরাহ করেছিল।</p>
<p>একই প্রতিষ্ঠানের জন্য চুক্তিবদ্ধ পণ্য গ্রহণ না করেই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডকে ক্রয়কারী সংস্থা ১৯ কোটি ৮৭ লাখ ৩ হাজার ৩৫০ টাকা প্রদান করে।</p>
<p>প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরীক্ষার সময় বিল-ভাউচার, এমওইউ, স্টক পরীক্ষায় দেখা গেছে, এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড ওষুধ সরবরাহ করেনি, কিন্তু ক্রয়কারী সংস্থা অর্থ প্রদান করেছে।</p>
<p>এ ছাড়া অপারেশনাল প্ল্যান-৫-এর আওতায় অল্টারনেটিভ মেডিকেল কেয়ারে (এএমসি) ল্যাবরেটরি পণ্য সরবরাহ না করা হলেও মেসার্স প্রান্তিক এন্টারপ্রাইজকে ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অডিট চলাকালীন টেন্ডার ডকুমেন্ট, চুক্তি, কাজের আদেশ এবং বিল ভাউচার পরীক্ষায় দেখা গেছে, সরবরাহকারীকে বিল পরিশোধ করা হলেও ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতাল কর্তৃক যন্ত্রপাতি গ্রহণ করেনি।</p>
<p>একটি চুক্তিতে সর্বনিম্নকে বাদ দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতার কাছ থেকে চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইন ডিরেক্টর কার্যালয়ের জন্য বাংলাদেশ সায়েন্স হাউস নামে একটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা হয়। এজন্য প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি হয় ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকায়। অথচ একই টেন্ডারে সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েছিল বগুড়া ট্রেড সেন্টার; তাদের দর ছিল ২ কোটি ২৪ লাখ ৭০ হাজার। অর্থাৎ সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে ৯০ লাখ ৩০ হাজার টাকা বেশি দামে সরঞ্জমগুলো কেনা হয়।</p>
<p>সরকারের আর্থিক ক্ষতি: প্রতিবেদন অনুযায়ী, অপ্রয়োজনীয় ও নিম্নমানের সরঞ্জাম ক্রয়, সর্বোচ্চ দরদাতার কাছ থেকে যন্ত্রপাতি কেনা, পণ্য গ্রহণের আগেই বিল পরিশোধসহ নানা অনিয়মের কারণে তিনটি ওপিতে সরকারের সরাসরি ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে, অপারেশনাল প্ল্যান-২-এর একটি প্যাকেজে সর্বোচ্চ দরদাতার কাছ থেকে পণ্য কেনায় ক্ষতি ৯০ লাখ ৩০ হাজার টাকা।</p>
<p>এ ছাড়া অপারেশনাল প্ল্যান-৩-এর দুটি প্যাকেজে পণ্য গ্রহণ না করা সত্ত্বেও বিল পরিশোধ করায় ক্ষতি প্রায় ২৪ কোটি এবং অপারেশনাল প্ল্যান-৫-এর ল্যাবরেটরি যন্ত্রপাতি সরবরাহ না করলেও বিল পরিশোধে ক্ষতি ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব অনিয়মের কারণে সরকারের আর্থিক ক্ষতি ছাড়াও অনেক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সময়মতো পায়নি। এ ছাড়া নিম্নমানের সরঞ্জাম চিকিৎসাসেবার মান ও রোগীর নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলেছে।</p>
<p>প্রতিযোগিতাহীন টেন্ডারে কমমূল্যে ক্রয় চুক্তি: শুধু কেনাকাটায় অনিয়ম নয়, টেন্ডার কার্যক্রমেও অনিয়ম করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় ২১৪ কোটি টাকায় ৩০টি চুক্তি সম্পাদন করেছে। কিন্তু এই ক্রয় কাজের জন্য অনুমান মূল্য ধরা ছিল ২৩৭ কোটি ২১ লাখ টাকা। অর্থাৎ অনুমান মূল্যের চেয়ে ২৩ কোটি টাকা কমমূল্যে চুক্তি করা হয়েছে। অর্থাৎ ৮.১৩ শতাংশ কম মূল্যে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চুক্তি করা হয়।</p>
<p>প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট ক্রয়চুক্তির মধ্যে ৪৩.৩৩ শতাংশ চুক্তি একক দরদাতার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। অর্থাৎ এই টেন্ডারগুলোতে কার্যত কোনো প্রতিযোগিতাই ছিল না। আর মোট চুক্তিমূল্যের ৮২.৮৮ শতাংশ পেয়েছে মাত্র পাঁচটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ছয়টি দরপত্রে অংশ নিয়েছে মাত্র একজন করে দরদাতা। আরও কয়েকটি দরপত্রে প্রতিযোগী ছিল দুই বা তিনটি প্রতিষ্ঠান। অর্থাৎ একটি বড় অংশেই প্রকৃত প্রতিযোগিতার ঘাটতি ছিল স্পষ্ট।</p>
<p>৩০টি ক্রয় কার্যক্রমের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কাজ পেয়েছে ‘সিমেন্স হেলথ কেয়ার লিমিটেড’ এবং ‘আজমির ইন্টারন্যাশনাল’ নামে দুটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠান দুটি একক দরদাতা হিসেবেই তিনটি করে কাজ পেয়েছে। তবে টাকার অঙ্কে বেশি কাজ পেয়েছিল সিমেন্স হেলথ কেয়ার লিমিটেড, তাদের কাজের মূল্য ছিল মোট চুক্তির ৩২.২১ শতাংশ। এ ছাড়া দুটি করে কাজ পেয়েছে ‘একমি ল্যাবরেটরিজ’ এবং ‘ইনসেপ্টা ফার্মাসিটিক্যালস’। তাদের কাজের মূল্য ৬ থেকে ৮ শতাংশ।</p>
<p>এ ছাড়া কিছু ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক টেন্ডারের অপপ্রয়োগ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশীয় সরবরাহকারী অংশ নিলেও কিছু ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র (আইসিটি) পদ্ধতি ব্যবহার হয়েছে। এতে সময় ও অর্থ উভয়ের অপচয় হয়েছে।</p>
<p>বিপিপিএ মনে করে, এটি প্রতিযোগিতার ঘাটতির স্পষ্ট প্রমাণ। প্রতিবেদনটিতে সিএমএসডির ভেতরের বেশকিছু কাঠামোগত দুর্বলতাকে দায়ী করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে—সংশ্লিষ্ট প্রকল্প ব্যবস্থাপক এবং ক্রয় কমিটির চাহিদা যাচাই ও প্রতিযোগিতা নিশ্চিতে ব্যর্থতা, অল্পসংখ্যক সরবরাহকারীর ওপর নির্ভরতা এবং চুক্তি বাস্তবায়নে ধীরগতি। অনুমোদন কর্তৃপক্ষের যৌক্তিক কারণ ছাড়া আন্তর্জাতিক টেন্ডার অনুমোদন দেওয়া এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিম্নমানের বা বিলম্বে পণ্য সরবরাহ।</p>
<p>স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ক্রয় কার্যক্রম উন্নত করার জন্য বেশকিছু সুপারিশ করেছে বিপিপিএ। সেগুলো হলো—চাহিদা মূল্যায়ন ছাড়া কোনো কেনাকাটা নয়, সরবরাহকৃত যন্ত্রপাতি দ্রুত ইনস্টল ও ব্যবহার নিশ্চিত করা, একক দরদাতার ক্ষেত্রে পুনঃটেন্ডার বাধ্যতামূলক, আগাম অর্থ প্রদানের প্রথা বন্ধ, স্থায়ী ক্রয় সেল গঠন এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক টেন্ডার শুধু যৌক্তিক ক্ষেত্রে আহ্বান করতে হবে। পণ্যের মান ও কার্যকারিতা নিশ্চিতে নিয়মিত পরিদর্শন ও ক্রয় কার্যক্রম সময়মতো সম্পন্ন করার জন্য পরিকল্পনা করতে হবে।</p>
<p>বিপিপিএর প্রতিবেদন প্রসঙ্গে আইএমইডি সচিব মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা এবং অবাধ প্রতিযোগিতা নিশ্চিতে কেনাকাটা পর্যালোচনা করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। ক্রয় কার্যক্রমে অনিয়ম এবং অসংগতিগুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে অবহিত করার পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হয়েছে। যাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের পাশাপাশি অনিয়ম বন্ধ করা যায়।’</p>
<p>আর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর বলেন, ‘বিপিপিএর প্রতিবেদন এখনো পাইনি। প্রতিবেদন পেলে অনিয়মগুলো অনুসন্ধান করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’</p>
<p>এদিকে, শুধু স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নয়, স্বাস্থ্য খাতে সরকারি কেনাকাটার অন্যতম সংস্থা কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) অবস্থাও প্রায় একইরকম। বিপিপিএর আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিএমএসডির ৩০টি চুক্তির মধ্যে ১২টিতে অংশ নিয়েছে মাত্র একজন দরদাতা। এ ছাড়া প্রতিযোগিতামূলক মূল্য ও পণ্যের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একাধিক দরপত্রে প্রস্তাবিত দাম অনেক ক্ষেত্রে অনুমান মূল্যের তুলনায় অনেক কম ছিল। কিছু ক্ষেত্রে এই পার্থক্য পৌঁছেছে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত।</p>
<p>পর্যবেক্ষণে বলা হয়, কম দাম মানহীন পণ্য সরবরাহের ইঙ্গিত দেয়, আবার অন্যদিকে অনুমান মূল্য ইচ্ছাকৃতভাবে বেশি ধরা হয়ে থাকতে পারে, যাতে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান সুবিধা পায়। এমনকি কিছু টেন্ডার ছিল একেবারে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন। যেমন মোবাইল ক্লিনিক ভ্যান কেনার দরপত্র বারবার আহ্বান করলেও একজন ছাড়া আর কেউ অংশ নেয়নি। একই চিত্র দেখা গেছে মেথাডন, অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ এবং কিছু উচ্চমূল্যের যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে।</p>
<p>বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রয় কার্যক্রমে অদক্ষতা ও অনিয়মের কারণে সরকারি অর্থের অপচয়, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সরঞ্জামের অভাবে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতাহীন ক্রয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে স্পষ্ট যে, সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার এখনো চ্যালেঞ্জের মুখে। সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া স্বাস্থ্য খাতে কোটি কোটি টাকার অপচয় এড়ানো সম্ভব নয়।</p>
<p>সার্বিক বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘উন্নয়নের নামে এমন আর্থিক ক্ষতি এবং অপচয় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একটি স্বার্থান্বেষী মহল এসব অনিয়মের মাধ্যমে সম্পদ বিকাশের সুযোগ নিয়ে থাকে। রাজনৈতিক শক্তি, সরবরাহকারী এবং আমলাদের একটি ত্রিমুখী সংঘবদ্ধ চক্র আইনের বিভিন্ন ফাঁকফোকর গলিয়ে এবং আইন লঙ্ঘন করে এসব অপকর্ম করে থাকে। শুধু অনিয়মের চিত্র তুলে ধরলে হবে না, এসব বন্ধ করতে হলে জড়িতদের অবশ্যই শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://amadersomoy.net/archives/24634/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>সমাজকল্যাণ উপদেষ্টার এপিএসের বিশেষ অঞ্চলপ্রীতি দুর্নীতি ও ক্ষমতা অপব্যবহারের অভিযোগ</title>
		<link>https://amadersomoy.net/archives/24626</link>
					<comments>https://amadersomoy.net/archives/24626#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Masteradmin]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 24 Aug 2025 11:43:32 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[অপরাধ]]></category>
		<category><![CDATA[সমাজকল্যাণ উপদেষ্টার এপিএসের বিশেষ অঞ্চলপ্রীতি দুর্নীতি ও ক্ষমতা অপব্যবহারের অভিযোগ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://amadersomoy.net/?p=24626</guid>

					<description><![CDATA[নিজস্ব প্রতিবেদক : ধরা কে সরা জ্ঞান মনে করা আরও একজন এপিএসের খোঁজ পাওয়া গেছে। তার নাম নাজমুস সাদাত পারভেজ। কাজ করেন সমাজকল্যান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদের এপিএস হিসেবে। এপিএস হয়ে তিনি বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে অস্ত্র প্রশিক্ষণ নেন। এই আমলেও একটি বিশেষ জেলার পুরনো চক্রকে পৃষ্ঠপোষকতা-পদোন্নতি দেন। কাজ না করে সচিবালয়ের তদবিরবাজদের কাছ থেকে [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>নিজস্ব প্রতিবেদক : ধরা কে সরা জ্ঞান মনে করা আরও একজন এপিএসের খোঁজ পাওয়া গেছে। তার নাম নাজমুস সাদাত পারভেজ। কাজ করেন সমাজকল্যান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদের এপিএস হিসেবে। এপিএস হয়ে তিনি বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে অস্ত্র প্রশিক্ষণ নেন। এই আমলেও একটি বিশেষ জেলার পুরনো চক্রকে পৃষ্ঠপোষকতা-পদোন্নতি দেন। কাজ না করে সচিবালয়ের তদবিরবাজদের কাছ থেকে নানা উপঢৌকন নিয়ে গুপ্ত স্থানে লুকিয়ে রাখেন। সরকারি প্রকল্পে নিজের ঘনিষ্ট লোক বসিয়ে কামাই করেন। এমনকি বিদেশে গিয়ে বা কখনো সরকারি আমলাদের বিদেশ যাওয়ার ব্যবস্থা করে নিরাপদে লেনদেন ও ভাগ বাটোয়ারা চূড়ান্ত করেন।</p>
<p>পৈত্রিক সূত্রে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের বাসিন্দা এই এপিএসের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে যে তিনি মন্ত্রণালয়ে গোপালগঞ্জের প্রভাব ভাঙতে দেননি। মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া গেছে। কর্মকর্তাদের তালিকা ঘেঁটে দেখা গেছে, ১০-১৫ বছর বা তারও অধিক সময় ধরে ঢাকার সদর কার্যালয়ে কর্মরত কয়েক ডজন কর্মকর্তা রয়েছেন বহাল তবিয়তে। এই সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে জন্মসূত্রে গোপালগঞ্জের কর্মকর্তারা সবচেয়ে এগিয়ে। এদের প্রায় সবার বিরুদ্ধেই রয়েছে গুরুতর অভিযোগ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই চক্রকে ভাঙতে অনেকবার মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে কিন্তু কাজ হয়নি। শুধু কি গোপালগঞ্জ চক্র? তিনি হাত দিতে দেননি আওয়ামীলীগের রেখে যাওয়া চক্রকেও। বদলি বা প্রত্যাহার তো দূরের কথা, অনেককে পদোন্নতি পর্যন্ত দেয়া হয়েছে এবং করা হয়েছে বিভিন্ন বিভাগ-উপশাখার প্রধানও। ফলে স্থবির হয়ে আছে মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলো। এ নিয়ে চাঁপা ক্ষোভ বিরাজ করছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে।</p>
<p>তার ক্ষমতা এতটাই, যে মন্ত্রণালয়ে কাজ করেন, সেই মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জানতেই পারেন না তিনি প্রকল্প পরিচালক হিসেবে কাকে নিয়োগ দিয়ে ফাইল স্বাক্ষর করেছেন। তার সাথে গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন কথা বলতে গেলে নিজেকে সেনাবাহিনীর এক পদস্থ কর্মকর্তার কাজিন বলে পরিচয় দেন। এ বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গেলে জানা যায় কোনো এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ওই সেনবাহিনীর ওই শীর্ষ কর্মকর্তা তার সঙ্গে একটি স্নাতকোত্তর কোর্স সম্পন্ন করেছিল। এতে তার সঙ্গে ঘনিষ্টতা বাড়ে। আর এই সম্পর্ককে পুঁজি করে তিনি গোয়েন্দা সংস্থাকে পর্যন্ত ভয় দেখান। ওই শীর্ষ কর্মকর্তা এ ঘটনায় বিবৃতবোধ করেছেন। মাস তিনেক আগে সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের ফেসবুক টাইমলাইনে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায় আলোচিত এই এপিএস বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। যা একইসাথে অনৈতিক ও নজিরবিহীন। জানা গেছে, সেখানেও তিনি প্রভাব খাঁটিয়েছেন ওই সেনাবাহিনীর ওই শীর্ষ কর্মকর্তার কাজিন পরিচয়ে।</p>
<p>তার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একটি অধিদপ্তরে তিনি সেই বিশেষ এলাকার লোকজন বসিয়ে সেই অধিদপ্তর দীর্ঘদিন দখল করে রেখেছেন। কাউকে সেখান থেকে বের হতে দিচ্ছেন না। আবার প্রবেশেও নিজের লোক ছাড়া কাউকে বসাতে চাচ্ছেন না। এমন প্রভাব তিনি এই আমলেও খাটিয়ে চলেছেন। সর্বশেষ গত মাসে সমাজসেবা অধিদপ্তরে অতিরিক্ত পরিচালক থেকে পরিচালক পদে পদোন্নতির প্রস্তাবনায় আসে ১৪ জন কর্মকর্তার নাম। তার মধ্যে ৪ জনই একটি বিশেষ এলাকার। আর সারা বাংলাদেশ থেকে মাত্র ১০ জন। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের মোট ১৬ জেলার মাত্র ১ জন পদোন্নতির যোগ্য বলে প্রস্তাব করা হয়। এতে তীব্র আঞ্চলিক বৈষম্য লক্ষ্য করা গেছে। এই সময়ে এটা কীভাবে সম্ভব? এ ঘটনায় নাজমুস সাদাত পারভেজের সরাসরি হাত রয়েছে বলে জানা যায়।</p>
<p>তার আওয়ামীপ্রীতি সবার জানা। সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিকল্পনা বিভাগের প্রধান হিসেবে যাকে বসানো হয়েছে তার আপন বোন চাপাইনবাবগঞ্জের জেলার মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। এছাড়া, ১৫ বছরের বেশি তিনি একই কার্যালয়ে চাকরি করছেন। তার বদলি হবার কথা থাকলেও তিনি হন নাই, উল্টো আরও পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। এরকম অনেক কর্মকর্তার সন্ধান পাওয়া যায় যেখানে ১০-১৫ বছরের অধিক সময় ধরে স্বপদে বহাল আছেন। তাদেরই আরেকজন টুঙ্গিপাড়ার বাসিন্দা ফরিদ উদ্দিন মোল্লা। তিনি ২০০২ সাল থেকে ঢাকায় কর্মরত। তাদের ওপর কোনো বদলির আদেশ হয় নাই। পতিত সরকারের আর্শীবাদপ্রাপ্ত বলে তাদের এমন সুবিধা দেওয়া হয়েছে কর্মকর্তাদের অনেকে মনে করে।</p>
<p>সম্প্রতি সমাজকল্যান মন্ত্রণালয় থেকে সদ্য অবসরে যাওয়া সচিবের নেতৃত্বে মন্ত্রণালয়ের সকল শীর্ষ কর্মকর্তা একযোগে বিদেশে প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেয়। সচিবের অবসরে যাওয়ার এক সপ্তাহ আগে বিদেশ সফরে পাঠানোর আয়োজন করে বিতর্কিত হন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা। সেখানেও এপিএসের হাত ছিল বলে জানা যায়। কারণ ওই কর্মসূচিতে যারা অংশ নিয়েছে তাদের চূড়ান্ত করেছেন নাজমুস সাদাত পারভেজ নিজে। তাদের সঙ্গে একজন প্রকল্প পরিচালকও যান। যা ছিল অপ্রয়োজনীয়। ধারণা করা হয়, বিদেশে বসে তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ওই প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেয়ার আশ্বাসে লেনদেন চূড়ান্ত করতেই এই একযোগের সফর। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়িত আইএসও প্রকল্পে কয়েকটি কম্পোনেনেটের কাজ পাইয়ে দেওয়া ছিল তাদের লক্ষ্য।</p>
<p>উপদেষ্টাকে না জানিয়ে বিভিন্ন প্রকল্পে পরিচালক নিয়োগ দিয়েছেন নাজমুস সাদাত। এতে অর্থের লেনদেন হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত এসএসপিরিট প্রকল্পে যাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তিনি অযোগ্য। এর আগে আইএসও প্রকল্পেও একই ঘটনা ঘটিয়েছে নাজমুস সাদাত। সেখানে বিশ্বব্যাংকের নির্দেশনা ছিল রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করা লোককে নিয়োগ দিতে হবে। এমন শর্ত থাকা প্রকল্পে তিনি কৌশলে উপদেষ্টার স্বাক্ষর নিয়ে অযোগ্য লোককে বসিয়ে দিয়েছেন। যার রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কাজ করার কোনো অভিজ্ঞতাই নাই।</p>
<p>আরও ভূরিভুরি অভিযোগের মধ্যে রয়েছে মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বিভিন্ন সংস্থায় প্রভাব বিস্তার ও দুর্নীতি। এমন একটি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে আল নাহিয়ান ট্রাস্ট। প্রতিষ্ঠানটির ঢাকাস্থ কার্যালয়ের একাউন্টেন্টের সাথে যোগসাজশ করে অধীনস্থ দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনার ভাড়া ভাগাভাগি করার অভিযোগও এসেছে। অভিযোগ এসেছে আল নাহিয়ান ট্রাস্টের লালমনিরহাট শাখার একজন কর্মকর্তাকে প্রশ্রয় দেয়ার, যিনি সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর পালিত পুত্র এবং জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। আব্দুল হাকিম নামের সেই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন, অর্থ আত্মসাৎসহ বিস্তর অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে পুরনো কিছু সংবাদে ও ভিডিওতে। কর্মস্থল থেকে জারি করা হয়েছিল কারণ দর্শানোর নোটিশও। তবু তাকে প্রত্যাহার করা যায়নি এপিএস নাজমুস সাদাতের প্রভাবে।</p>
<p>এছাড়া, মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে সেনাবাহিনী পরিচালিত সেনানিবাস প্রয়াস স্কুলে চাকরি দিয়েছেন নিজের বোনকে। এমন শত শত অভিযোগ নাজমুস সাদাতের বিরুদ্ধে।</p>
<p>নাজমুস সাদাত পারভেজের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। সমাজ কল্যান মন্ত্রণালয়ের ওয়েভসাইটে প্রকাশিত নম্বরে গত কয়েকদিন যাবত তাকে বিভিন্ন নাম্বার থেকে কল দিলে সেটি সব সময় বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর তার সঙ্গে সমাজ কল্যান মন্ত্রণালয়ে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তিনি সেখানে অনুপস্থিত থাকেন। তার অফিসের কর্মকর্তা আব্বাস কে এ সম্পর্কে অবহিত করা হয়। যোগাযোগের জন্য তার আর কোনো নাম্বার আছে কিনা জানতে চাওয়া হয়। আব্বাস বলেন তার ওই নাম্বার ছাড়া আর কোনো নাম্বার তার জানা নেই। তাকে যোগাযোগ করার জন্য সাংবাদিকের কার্ড দেওয়া হয়। আব্বাস সেই কার্ড তার হাতে তুলে দিয়েছেন বলে জানান। কিন্তু তিনি সাংবাদিকের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেননি।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://amadersomoy.net/archives/24626/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>বিশ্ব ব্যাংকের ১৮৮২ কোটি টাকার প্রকল্পে হরিলুট!</title>
		<link>https://amadersomoy.net/archives/24522</link>
					<comments>https://amadersomoy.net/archives/24522#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Masteradmin]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 22 Aug 2025 13:48:02 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[অপরাধ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://amadersomoy.net/?p=24522</guid>

					<description><![CDATA[জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) মানবসম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি প্রকল্পে শতকোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ২০২১ সালের অক্টোবরে দেশের ৩০টি জেলায় পাইপলাইন স্থাপন, গভীর নলকূপ স্থাপন, ওভারহেড ট্যাংক নির্মাণ ও ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপনের কাজে ১৮৮২ কোটি টাকার এই প্রকল্প হাতে নেয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপদ [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) মানবসম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি প্রকল্পে শতকোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ২০২১ সালের অক্টোবরে দেশের ৩০টি জেলায় পাইপলাইন স্থাপন, গভীর নলকূপ স্থাপন, ওভারহেড ট্যাংক নির্মাণ ও ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপনের কাজে ১৮৮২ কোটি টাকার এই প্রকল্প হাতে নেয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপদ পানির সেবায় বিশ্ব ব্যাংকের সহায়কপুষ্ট এই প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প পরিচালক তবিবুর রহমান, জামালপুর এবং কুমিল্লা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি এসব বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ জমা পড়েছে।  এ নিয়ে তদন্তে নেমেছে দুদক।</p>
<p>আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া প্রথম দরদাতাকে কাজ না দিয়ে দ্বিতীয়, তৃতীয় কিংবা পঞ্চম লোয়েস্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিয়মবহির্ভূতভাবে কাজ পাইয়ে দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে এই তিন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রকল্প পরিচালক তবিবুর রহমান বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের নেতা ছিলেন। সেই সুবাধে আওয়ামীপন্থি ঠিকাদারদের সঙ্গে সখ্য থাকায় তাদের বিশেষ সুবিধা দিতেন। ১০ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ কমিশন নিয়ে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিতেন। কাজ না করে ঠিকাদারদের কোটি কোটি টাকার বিল প্রদান করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।</p>
<p>নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঠিকাদার বলেন, আওয়ামী সরকারের আমলে পিডি তবিবুর রহমান ও আওয়ামী সিন্ডিকেট ঠিকাদারদের প্রভাব বিস্তারের কারণে ডিপিএইচইতে কোনো কাজ করা যেত না। ফাস্ট লোয়েস্ট হয়েও কাজ পাওয়া যেত না। দ্বিতীয়, তৃতীয় ও পঞ্চম লোয়েস্টকে ১০ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ কমিশনে কাজ দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে রাষ্ট্রের ক্ষতি করেছে। প্রকল্পে নিম্নমানের পাইপ ও ইউরোপিয়ান মোটর দেওয়ার কথা থাকলেও ইন্ডিয়ান নিম্নমানের মোটর দিয়ে বাড়তি টাকা লুটে খেয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগও উঠেছে নির্বাহী প্রকৌশলীসহ প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে। গোপালগঞ্জের মনির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কন্সট্রাকশন নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রোপ্রাইটর মো. কামাল হোসেন ক্ষমতা প্রয়োগ করে সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. সারোয়ার হোসেন ও পিডি তবিবুর রহমানকে ম্যানেজ করে শত শত কোটি টাকার কাজ পাইয়ে দিয়ে পকেট ভারী করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এখনো আওয়ামী সিন্ডিকেট ঠিকাদারদের দখলে ডিপিএইচই- এমনটা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। </p>
<p>জানা যায়, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের নেতাদের জিম্মায় এখনো এই অধিদপ্তর। তাহলে শত ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে পরিবর্তন কী পেলাম! ৫ আগস্টের পরও তাদের টেন্ডার বাণিজ্য এখনো ঠিকই চলছে। পিডি তবিবুর রহমান দুর্নীতি আর অনিয়মের মাধ্যমে প্রকল্পের টাকা লুটপাট করে গড়েছেন অঢেল সম্পদ। ‘ফাইভ পার্সেন্ট’ ছাড়া তিনি কাজের ওয়ার্ক ওর্ডার দেন না বলে ফাইভ পার্সেন্ট পিডি নামে পরিচিতি পাওয়া এই প্রকল্প পরিচালকের ধানমন্ডিতে রয়েছে কোটি টাকা মূল্যের একাধিক ফ্ল্যাট। এছাড়া অনুসন্ধানে আরও পাওয়া যায়, ধানমন্ডি ৪/এ লেকের পাড় ক্রিডেন্স হাউজিং থেকে আড়াই হাজার স্কয়ার ফিটের ৫ কোটি টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট স্ত্রীর নামে কেনেন তিনি। রয়েছে নামে-বেনামে একাধিক নামিদামি ব্র্যান্ডের গাড়ি। ব্যক্তিগত গাড়িতে চড়ে আসেন অফিসে।</p>
<p>অনুসন্ধানে দেখা যায়, পিডি তবিবুর রহমান ফেব্রুয়ারি মাসে হোন্ডা সিআরভি একটি গাড়ি নিয়ে অফিসে আসেন, যার নম্বর ঢাকা মেট্রো-ঘ ১২-৭৩৬৭। গাড়িটির দাম প্রায় ৭৫ লাখ টাকা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গাড়িটি মহাখালী ডিএইচএস মোটরস থেকে কিনেছেন তিনি। গাড়ি রেজিস্ট্রেশনে ঠিকানা দেওয়া হয়েছে NAVANA DEL EVANTHE, ফ্ল্যাট-৬৮, রোড-৯-এ, ধানমন্ডি আর/এ, ঢাকা। মালিকের নামের জায়গায় দিদার ই আলম নামে এক ব্যাক্তির নাম রয়েছে, যার ভোটার আইডি নম্বর ১৯২২৮৫২৫২৮। ফোন নম্বরের জায়গায় তবিবুর রহমানের ব্যবহৃত নম্বরটি রয়েছে।</p>
<p>টেন্ডার বাণিজ্যে অনিয়ম আর দুর্নীতির অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) তবিবুর রহমান রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, এসব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আর আওয়ামী লীগ তো যে কেউ করতে পারে। আমরা সব সরকারের লোক।</p>
<p>জামালপুর জেলায় দুর্নীতির অভিযোগ: অনুসন্ধানে জানা যায়, জামালপুর জেলায় মানবসম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি প্রকল্পে পুকুরচুরির মতো ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়। অনিয়ম আর দুর্নীতির বরপুত্রখ্যাত জামালপুর জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী ও বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের অন্যতম নেতা মো. সুলতান মাহমুদ আছেন দুর্নীতির এক ধাপ এগিয়ে। নামে-বেনামে গড়েছেন অঢেল সম্পদ। ২০২৪ সালের মে মাসে হারুন-অর-রশীদ নামে এক ঠিকাদার সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. সারোয়ার হোসেন ও স্থানীয় সরকার বিভাগের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ এনে তদন্তের দাবি জানান।</p>
<p>প্রতিবেদনটিতে দেখা যায়, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জামালপুর জেলায় মানব সম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি প্রকল্পে একটি উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করেন নির্বাহী প্রকৌশলী। দরপত্রটির ওই বছরের অক্টোবর মাসের ২৩ তারিখ ইজিপি অনলাইনে ওপেনিং রিপোর্ট দাখিল করেন সুলতান মাহমুদ। সেখানে মাত্র দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে এবং প্রথম লোয়েস্ট শামিম ট্রেডার্স নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাখিল করা দরপত্র মূল্য ১৩ কোটি ৯৪ লাখ ২৭ হাজার ৫০১ টাকা এবং দ্বিতীয় লোয়েস্ট AWCL-GDL-MMC JV সর্বনিন্ম দরদাতার দাখিলকৃত মূল্য ১৬ কোাটি ৭১ লাখ ৫৯ হাজার ১২৮ টাকা। এখানে প্রথম লোয়েস্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ না দিয়ে দ্বিতীয় লোয়েস্ট পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজটি পাইয়ে দিয়ে প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ।</p>
<p> এ ছাড়া পুকুরচুরির মতো অভিযোগ রয়েছে সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পে। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে জামালপুর জেলায় এই প্রকল্পের বরাদ্দ ছিল প্রায় ২০ কোটি টাকা, যেখানে দেখা যায় সুলতান মাহমুদ অধিকাংশ কাজ প্রকল্পের বরাদ্দের চেয়ে ১০ শতাংশ রেটে ঠিকাদারদের পাইয়ে দিয়ে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। অনুসন্ধানে তেমন কিছু তথ্য আসে প্রতিবেদকের কাছে। এর মধ্যে কয়েকটি প্যাকেজের টেন্ডার আইডির তথ্য পাওয়া গেছে, টেন্ডার আইডি-৮৪৭৬৪১ প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ৭৯ লাখ ৭১ হাজার ৫৪৭ টাকা। এখানে তিনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আগের রেটে ১০ শতাংশ কমিশনে ৮৭ লাখ ৪৯ হাজার ২৭৯ টাকায় কাজ পাইয়ে দেন। টেন্ডার আইডি-৮৪৭৬৪০, প্রকল্পের বরাদ্দ ছিল ৭৯ লাখ ৭১ হাজার ৫৫৭ টাকা, যা ১০ শতাংশ কমিশনে ৮৭ লাখ ৫৪ হাজার ৭৬ টাকা এবং টেন্ডার আইডি-৪৮৩৩৯৪ প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ১ কোটি ৯ লাখ ৬০ হাজার ৯১৩ টাকা, যা ১০ শতাংশ কমিশনে ১ কোটি ১৯ লাখ ২৯ হাজার ৫৪ টাকার রূপসা প্রকৌশলীসহ ১৫টি প্যাকেজের প্রতিটি কাজ কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পাইয়ে দিয়ে কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠে আসে প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদের বিরুদ্ধে। </p>
<p>জামালপুর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজমের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকায় কাউকেই পরোয়া করতেন না তিনি। বুয়েট ছাত্রলীগ শাখার নেতা হওয়ায় মির্জা আজমের সঙ্গে সখ্য ছিল তার। আওয়ামী সরকারের আমলে ডিপিএইচইতে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিতি পান বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের এই নির্বাহী প্রকৌশলী।</p>
<p>২০২৪ সালের ২০ জুন সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মিজানুর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সুলতানের অনিয়ম, দুর্নীতি আর ক্ষমতা প্রয়োগ করে ডিপিএইচইতে ভীতি সৃষ্টি করা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত রিপোর্ট দেয়নি স্থানীয় সরকার বিভাগ। স্বৈরাচারী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ৭ নভেম্বর উপসচিব আশফিকুন নাহার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সুলতান মাহমুদের অনিয়ম, দুর্নীতি, অসদাচরণের অভিযোগ যাচাইপূর্বক মতামত দিতে বলা হলেও দৃশ্যমান কিছু দেখা যায়নি। টাকার বিনিময়ে সবকিছু ম্যানেজ করে ফেলেন তিনি এমন অভিযোগ করেন কেউ কেউ। সুলতান মাহমুদের ৩ কোটি টাকা দুর্নীতির বিষয়টি বর্তমানে স্থানীয় সরকার বিভাগের পানি সরবরাহ অধিশাখার যুগ্ম সচিব ড. মুহাম্মদ মনিরুজ্জামানকে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিতে বলা হলেও মন্ত্রণালয়ের ঝিমিয়ে চলা তদন্তে হতাশা প্রকাশ করেন কর্মকর্তা ও ভুক্তভোগী ঠিকাদারেরা।</p>
<p>এ বিষয়ে যুগ্ম সচিব মুহাম্মদ মনিরুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করতে চাইলেও সম্ভব হয়ে ওঠেনি। </p>
<p>কুমিল্লা জেলায় দুর্নীতির অভিযোগ: এদিকে কুমিল্লা জেলায়ও মানবসম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবারহ, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি প্রকল্পে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাসরুল্লার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।</p>
<p>খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৫ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনের সময় তড়িগড়ি করে দেশের বেশ কিছু জেলায় টেন্ডার আহŸান করেন প্রকল্প পরিচালক তবিবুর রহমান। তার মধ্যে কুমিল্লা জেলা একটি। কুমিল্লা জেলায় টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে পুকুরচুরির মতো ঘটনা ধরা পড়ে, যার টেন্ডার আইডি-৯২১৩৯৭। যেখানে প্রথম লোয়েস্ট দারদাতা মেসার্স জিলানী ট্রেডার্স ২৩ কোটি ৪৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় লোয়েস্ট ম্যান নোয়াব ২৩ কোটি ৫১ লাখ ৪৫ হাজার ১২৭ টাকা এবং তৃতীয় লোয়েস্ট গোপালগঞ্জের মনির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কন্সট্রাকশন ২৫ কোটি  ৬৬ লক্ষ ৩৩ হাজার ৬৪১ টাকা।</p>
<p>এখানে নির্বাহী প্রকৌশলী মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে তৃতীয় লোয়েস্ট গোপালগঞ্জের ঠিকাদার কামাল হোসেন ও কুমিল্লা মনোহরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা আবুল কালাম আজাদকে কাজটি ২ কোটি ১৬ লাখ টাকা বেশিতে দিতে প্রকল্প পরিচালকের কাছে সিএস পাঠান। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আনোয়ার ফাউন্ডেশনের চাহিদা মোতাবেক টার্নওভার নাই এবং পেমেন্ট সার্টিফিকেট বানিয়ে ইজিপিতে জমা দেয়। ভুয়া সনদের কাজটি এই সিন্ডিকেটটি প্রকল্প পরিচালক ও সাবেক চীফ ইঞ্জিনিয়ার মো. সারোয়ার হোসেনকে ম্যানেজ করে ভাগিয়ে নেয়। এতে সরকারের ২ কোটি ১৬ লাখ টাকা আর্থিক ক্ষতি করে নিজেদের পকেট ভারী করে এই সিন্ডিকেট। ওয়ার্কওর্ডার হওয়ার পরপরই কাজ না করেই ৩ কোটি ১০ লাখ টাকার বিল দিয়ে দেন নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক মিলে।</p>
<p>জানা যায়, আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালাম আজাদ সাবেক এলজিইডি মন্ত্রী তাজুল ইসলামের সমন্বয়কারী ছিলেন। মন্ত্রীর পার্সোনাল বিষয় দেখাশুনা করতেন এবং মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হওয়ায় অনিয়ম করে কাজ ভাগিয়ে নিয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।  এখনো ডিপিএইচইতে রয়েছে তার অদৃশ্য প্রভাব। প্রকল্প পরিচালকেরা তাকে বাড়তি সুবিধা দিয়ে সুবিধাও ভোগ করার অভিযোগ ওঠে বঞ্চিত ঠিকাদারদের কাছ থেকে। নির্বাহী প্রকৌশলী নাসরুল্লা কুমিল্লা জেলায় আওয়ামী সরকারের আমলে নানা রকম অনিয়ম আর দুর্নীতি করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। নামে-বেনামে গড়েছেন অর্থসম্পদ, গাড়ি ও বাড়ি। সাবেক এলজিডি মন্ত্রীর সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলেন এই কর্মকর্তা। তাকে প্রতি কাজের পার্সেন্টেস পাইয়ে দিতে সহযোগিতা করতেন এই কর্মকর্তা। সাবেক মন্ত্রীর উন্নয়ন সমন্বয়কারী কামাল হোসেন ও আবুল কালাম আজাদের সাথে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ থাকায় অনিয়ম আর দুর্নীতি করে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা লোপাট করেছে এই সিন্ডিকেট। নাসরুল্লার অনিয়ম আর দুর্নীতির বিষয় কুমিল্লায় দুদকের অনুসন্ধান এখনো চলমান রয়েছে।</p>
<p>এদিকে প্রকল্প পরিচালক তবিবুর রহমানের অনিয়ম আর দুনীতির বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদের নেত্বত্বে একটি টিম এসব বিষয়ে কাজ করছে বলে জানা গেছে।</p>
<p>দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, দুদক অনুসন্ধানে নেমেছে। অধিকতর তদন্ত করা হচ্ছে।</p>
<p>এই বিষয়ে জানতে চাইলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক কর্মকর্তা জানান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন প্রকল্পের টাকা লুটে খাচ্ছেন প্রকৌশলীরা।</p>
<p>শোনা যাচ্ছে, আওয়ামী সরকারের আমলে এখান থেকে ১ হাজার ৮৮২ কোটি টাকার বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন প্রকল্পে হরিলুট হয়েছে। সবকিছু আমলে নিয়েই দুদক তদন্ত করছে বলে জানান দুদকের এই কর্মকর্তা।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://amadersomoy.net/archives/24522/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>আওয়ামী দোসর ফজলুল হক (মধু) শত কোটি টাকার মালিক: তবুও ধরাছোঁয়ার বাইরে</title>
		<link>https://amadersomoy.net/archives/24519</link>
					<comments>https://amadersomoy.net/archives/24519#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Masteradmin]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 22 Aug 2025 12:53:35 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[অপরাধ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://amadersomoy.net/?p=24519</guid>

					<description><![CDATA[গণপূর্ত অধিদপ্তর মানেই যেন অনিয়ম আর দুর্নীতির আখড়া—এ অভিযোগ নতুন নয়। পিওন থেকে শুরু করে প্রকৌশলী, সবার নামই এসেছে নানা কেলেঙ্কারিতে। কিন্তু আশ্চর্য বিষয় হলো, অদৃশ্য ক্ষমতার জোরে অধিকাংশ কর্মকর্তাই থেকে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। তেমনই এক নাম মো. ফজলুল হক (মধু), বর্তমানে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (উন্নয়ন)। নির্বাহী প্রকৌশলী থাকা অবস্থায় ভূয়া বিল উত্তোলন, টেন্ডার বাণিজ্য, কমিশনের [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>গণপূর্ত অধিদপ্তর মানেই যেন অনিয়ম আর দুর্নীতির আখড়া—এ অভিযোগ নতুন নয়। পিওন থেকে শুরু করে প্রকৌশলী, সবার নামই এসেছে নানা কেলেঙ্কারিতে। কিন্তু আশ্চর্য বিষয় হলো, অদৃশ্য ক্ষমতার জোরে অধিকাংশ কর্মকর্তাই থেকে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।</p>
<p>তেমনই এক নাম মো. ফজলুল হক (মধু), বর্তমানে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (উন্নয়ন)। নির্বাহী প্রকৌশলী থাকা অবস্থায় ভূয়া বিল উত্তোলন, টেন্ডার বাণিজ্য, কমিশনের বিনিময়ে অগ্রিম বিল প্রদানসহ অসংখ্য অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এমনকি কাজ না করেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিল দেওয়ার মতো দুর্নীতি তার নেতৃত্বেই চলেছে দীর্ঘদিন।</p>
<p>জিকে শামীমসহ প্রভাবশালী ঠিকাদারি সিন্ডিকেটের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন ফজলুল হক। আগারগাঁও নিউরোসায়েন্স হাসপাতাল প্রকল্পে তার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ১০ কোটির বিল প্রদানের অভিযোগ উঠে। দুদকের অনুসন্ধান শুরু হলেও পরে রহস্যজনকভাবে তা ধামাচাপা পড়ে যায়।</p>
<p>সব অভিযোগ সত্ত্বেও তাকে পদোন্নতি দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসানো হয়। ফলে দুর্নীতির উৎসব আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে গণপূর্তের উন্নয়ন শাখায়। অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর গুলশান, মিরপুর, বনশ্রীসহ বিভিন্ন স্থানে জমি, ফ্ল্যাট আর প্লটের মালিক হয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, পরিবারের সদস্যদের নামে প্রায় ৩০ কোটি টাকার এফডিআরও রয়েছে তার।</p>
<p>কর্মকর্তাদের মতে, ফজলুল হক মধুর মতো দুর্নীতিবাজদের কারণে সৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপেক্ষিত আর অবহেলিত হয়ে পড়েছেন।<br />
তার সম্পদের বিস্তারিত হিসাব দ্বিতীয় পর্বে প্রকাশ করা হবে।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://amadersomoy.net/archives/24519/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>সিরিয়াল কিলার জিয়াউলের শিকার ১০৩০ জন</title>
		<link>https://amadersomoy.net/archives/24215</link>
					<comments>https://amadersomoy.net/archives/24215#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Masteradmin]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 17 Aug 2025 04:11:17 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Leadnews]]></category>
		<category><![CDATA[অপরাধ]]></category>
		<category><![CDATA[শিরোনাম]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://amadersomoy.net/?p=24215</guid>

					<description><![CDATA[‘একজন আসামি আছে যার ব্যাপারে তদন্ত করে পেয়েছি সে মাথায় গুলি করে এক হাজার ৩০ জন মানুষকে হত্যা করেছে। গুম করে মানুষদের আয়নাঘরে রাখা হয়েছিল। তার একটা নেশা ছিল এই গুম ব্যক্তিদের হাত-পা-চোখ বেঁধে নৌকায় করে মাঝ বুড়িগঙ্গায় নিয়ে যেত। গুলি করে লাশটা নদীতে ফেলত। গুলিটা ভিকটিমের মাথার কাছে নিয়ে করত। আমি জিজ্ঞাসা করলাম-সেটা কেন? [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>‘একজন আসামি আছে যার ব্যাপারে তদন্ত করে পেয়েছি সে মাথায় গুলি করে এক হাজার ৩০ জন মানুষকে হত্যা করেছে। গুম করে মানুষদের আয়নাঘরে রাখা হয়েছিল। তার একটা নেশা ছিল এই গুম ব্যক্তিদের হাত-পা-চোখ বেঁধে নৌকায় করে মাঝ বুড়িগঙ্গায় নিয়ে যেত। গুলি করে লাশটা নদীতে ফেলত। গুলিটা ভিকটিমের মাথার কাছে নিয়ে করত। আমি জিজ্ঞাসা করলাম-সেটা কেন? তার জবাব-গুলি করার পর নিহত ব্যক্তির মগজ ও রক্তের গরম ছিটা হাতে লাগলে দারুণ ফিলিংস অনুভব হতো।’</p>
<p>কে এই ভয়ানক খুনি, কে এই সিরিয়াল কিলার? আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামের এ বক্তব্যের সূত্র ধরে আমার দেশ অনুসন্ধান চালায়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই হিংস্র খুনি বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান। ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত র‌্যাবের বিভিন্ন পদে কর্মরত থাকা অবস্থায় নিজের টিম নিয়ে এই খুনগুলো করেছেন তিনি। গুম করা ব্যক্তিকে খুন করতে তিনি বলতেন-‘গলফ করো’।</p>
<p>অর্থাৎ ওকে খুন করো। জিয়াউল আহসান এখন কেরানীগঞ্জ বিশেষ কারাগারের ধলেশ্বরী ভবনে ডিভিশনপ্রাপ্ত সেলে বন্দি আছেন। টেলিফোনে জানতে চাইলে বিশেষ কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার সায়েফ উদ্দিন নয়ন জানান, সুনির্দিষ্ট কী অপরাধে তিনি কারাগারে আছেন বলতে পারছি না। তবে তিনি ১৫টি মামলায় (ধারা ৩০২, ৩০৭, ১০৯, ৩২৬) বন্দি আছেন।</p>
<p>এ সম্পর্কে অনুসন্ধান করতে গিয়ে জিয়াউল আহসানের নৃশংসতার অসংখ্য কাহিনি জানা গেছে। পলাতক শেখ হাসিনা এবং তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক সিদ্দিকের নির্দেশেই বেশি মানুষকে গুম-খুন করেছেন জিয়াউল আহসান। তিনি হাসিনা ও তারিক সিদ্দিকের একান্ত অনুগত ও বিশ্বস্ত ছিলেন। তাদের নির্দেশে গুম করে আয়নাঘরে রাখতেন ভিকটিমদের। সেখান থেকে বিভিন্ন কায়দায় খুন করে লাশ গুম করে দেওয়া হতো। জিয়াউল আহসান গুম হওয়া ব্যক্তিদের যমটুপি পরিয়ে মাইক্রোবাসে করে পোস্তগোলা ব্রিজ, কাঞ্চন ব্রিজ কিংবা কাঁচপুর ব্রিজে নিয়ে গিয়ে গুলি করে লাশ ফেলে দিতেন শীতলক্ষ্যা ও বুড়িগঙ্গা নদীতে। একদিনে একজনকে দিয়ে ১১টি এবং আরেকজনকে দিয়ে ১৩টি খুন করারও রেকর্ড আছে। কখনো মাইক্রোবাসেই ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলা হতো। এরপর লাশ রেললাইনের ওপর শুইয়ে দিতেন। ট্রেন এসে লাশ দ্বিখণ্ডিত, ত্রিখণ্ডিত করত।</p>
<p>২০১১ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত সময়ে কমলাপুর থেকে টঙ্গি পর্যন্ত ট্রেনে কাটা যত অজ্ঞাত পরিচয়ের লাশ পাওয়া যেত, তা সবই জিয়াউল আহসানের খুন করা। বেশিরভাগ খুন করা হয়েছে বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদীতে। একটি নির্দিষ্ট নৌকা ছিল। সেই নৌকায় করে যমটুপি পরা ব্যক্তিদের মাঝনদীতে নিয়ে টুপি খুলতেন। চোখ বাঁধা অবস্থায়ই থাকত। মাথার একেবারে কাছে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করতেন। ফিনকি দিয়ে রক্ত ও মগজ এসে পড়ত জিয়াউল আহসানের হাতে। তখন তিনি উল্লাস করতেন। কখনো আবার দেখা যেত আগেই হত্যা করা লাশ নৌকায় তুলে নিচে ও উপরে সিমেন্টভর্তি বস্তার সঙ্গে বেঁধে বুড়িগঙ্গায় ফেলে দিতেন, যাতে লাশ পানির নিচে তলিয়ে যায়। হতভাগ্য বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর শেষ পরিণতিও ঘটে জিয়াউলের হাতে।</p>
<p>শুধু তা-ই নয়, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ব্যক্তিকে ধরে সীমান্তের ওপারে তাদের হাতে তুলে দেওয়ারও অনেক ঘটনা আছে। সিলেট সীমান্তে এমন ৭ জনকে তুলে দেওয়ার নজির একটি রেকর্ডে উল্লেখ আছে। একবার মেজর জেনারেল (অব.) তারিক সিদ্দিকের ক্যান্টনমেন্টের বাসা থেকে ৫০ কেজিরও বেশি ওজনের একটি বস্তা পাঠানো হয় জিয়াউল আহসানের বাসায়। গাড়িতে করে যিনি এই বস্তা জিয়াউলের বাসায় নিয়ে যান, তার বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়, ‘এটি ছিল টাকার বস্তা’।</p>
<p>কে এই মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসান? তার চাকরিজীবন সম্পর্কে খোঁজ করে জানা গেছে, তিনি সেনাবাহিনীর ২৪তম লং কোর্সের কর্মকর্তা। পরিচিতি নম্বর বিএ-৪০৬০। ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত বাংলাদেশে যেকোনো বাহিনী কর্তৃক সংঘটিত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, আয়নাঘর, টেলিমনিটরিং ইত্যাদি সব অপরাধের চিহ্নিত অন্যতম প্রধান ব্যক্তি এই জিয়াউল আহসান। তারিক সিদ্দিকই তার প্রধান বস। তিনিই তাকে ‘মনস্টার’ বা দানব বানিয়েছেন।</p>
<p>জিয়াউল আহসান ২০০৯ সালে এলিট ফোর্স হিসেবে পরিচিত র‌্যাব-২ এর টুআইসি হিসেবে যোগদান করেন। লে. কর্নেল পদে পদোন্নতি পেয়ে র‌্যাব সদর দপ্তরে গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সালে কর্নেল পদে পদোন্নতি পেয়ে র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হন। ওই বছরের মে মাসে শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশে গণহত্যায় তিনি র‌্যাবের অভিযান পরিচালনা করেন। ২০১৪ সালে নারায়ণগঞ্জে ৭ খুনের ঘটনাও তার নির্দেশনায় ঘটে। ২০১৫ সালে তিনি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে পদোন্নতি পান। তাকে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইর পরিচালক (প্রশিক্ষণ) পদে পদায়ন করা হয়। এক বছর পর তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) পরিচালক করা হয়। ২০২১ সালে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতির পর তিনি এনটিএমসির মহাপরিচালক হন।</p>
<p>জিয়াউল আহসানের গুম সংক্রান্ত অপরাধ সম্পর্কে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে গুম কমিশনের সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, কমিশন নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে নয়, সামগ্রিক গুমের তদন্ত করছে। গুম কমিশনের রিপোর্ট পর্যালোচনা করে জানা গেছে, কীভাবে গুম করা হতো, গুমের পর খুন করা হতো এবং লোমহর্ষক নির্যাতন করা হতো। গুমে ‘সুপিরিয়র কমান্ড’ ছিলেন শেখ হাসিনা। তিনি তারেক সিদ্দিকের মাধ্যমে গুমের কিংবা খুন করার নির্দেশগুলো দিতেন। কমিশনের রিপোর্টে বিভিন্ন কেস স্টাডি তুলে ধরা হয়েছে। সাদা পোশাকে এক বাহিনীর সদস্যরা গুম করত, প্রচার করা হতো অন্য বাহিনীর নাম। এক বাহিনীর সাদা পোশাকধারীরা তুলে নিয়ে আসত টার্গেট মানুষটিকে, হস্তান্তর করত অন্য বাহিনীর হাতে। যত গুম হয়েছে তার মধ্যে জিয়াউল আহসানের টিমই বেশি করেছে। গুমের শিকার হওয়া মানুষদের মধ্যে জিয়াউল আহসান ও তার টিম হত্যাই করেছে এক হাজার ৩০ জনকে। এজন্য বুড়িগঙ্গার পোস্তগোলা ঘাট নীরব সাক্ষী হয়ে আছে। কত মানুষকে তিনি গুম করেছেন এ পরিসংখ্যান থেকেই বোঝা যায়।</p>
<p>বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান শেখ হাসিনার পনেরো বছরের শাসনকালে এক মূর্তিমান আতঙ্কের নাম। শেখ হাসিনা ও তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল তারিক সিদ্দিক বড় বড় যত অপকর্ম করিয়েছেন, তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন জিয়াউল আহসান। অপহরণ, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ফোনে আড়ি পেতে কল রেকর্ড করা সবকিছুতেই তার সংশ্লিষ্টতা ছিল। জুলাই-আগস্টের গণহত্যায়ও অভিযুক্ত হয়েছেন এই কর্মকর্তা। সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়ার (আইকেবি) লেখাতেও জিয়াউল আহসানের অপরাধের বর্ণনা রয়েছে। জিয়াউল আহসান তাকে মেরে ফেলতে পারেনÑএমন তথ্যে তিনি আতঙ্কিত ছিলেন। একদিন সেনাপ্রধানের কার্যালয়ে বোমা আতঙ্কও দেখা দেয়।</p>
<p>গুম-খুনে জড়িত জিয়াউলসহ বিভিন্ন বাহিনীর ২৩ কমান্ডারকে চিহ্নিত গুম কমিশনের</p>
<p>গত পনেরো বছরে বিপুলসংখ্যক মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। এই গুমের সঙ্গে রাষ্ট্রের পাঁচটি বাহিনীর চিহ্নিত কিছু কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন। এর মধ্যে র‌্যাবের কর্মকর্তারা ৬০ শতাংশ গুমে জড়িত ছিলেন। গত ৬ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গুমে জড়িত ১১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ছয়জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। পাঁচজনই ডিজিএফআইর সাবেক মহাপরিচালক ও পরিচালক। তারা হলেন- লে. জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লে. জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী, মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) তৌহিদুল ইসলাম। অন্তর্বর্তী সরকার গুমের ঘটনাগুলো তদন্তের জন্য বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিটি গঠন করে গত বছরের ২৭ আগস্ট। কমিশনকে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত গুমের ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কমিশন ‘আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথ : অ্যা স্ট্রাকচারাল ডায়াগনসিস অব এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামে দুটি অন্তর্বর্তী রিপোর্ট প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দিয়েছে। কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি মইনুল ইসলাম আমার দেশকে জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরে কমিশন গুমসংক্রান্ত চূড়ান্ত রিপোর্ট সরকারের কাছে পেশ করবে।</p>
<p>গুম কমিশনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে গুম করা হতো তিনটি ধাপে। প্রথম ধাপে ছিল ‘কৌশলগত নেতৃত্ব’। এরা হলেন- ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক সিদ্দিক এবং পলাতক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ আওয়ামী লীগ সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। দ্বিতীয় ধাপে ছিলেন- বিভিন্ন বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার চিহ্নিত কর্মকর্তারা। তৃতীয় ধাপে বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থার সদস্যরা ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশ বাস্তবায়ন করতেন। গুম কমিশন গুমের এক হাজার ৮৫০টি অভিযোগ পেয়েছে। এই অভিযোগগুলোর মধ্যে এখনো ৩৪৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, গুম কমিশনে যারা অভিযোগ দায়ের করেছেন, এখনো তাদের অনেককে হুমকি বা ‘থ্রেট’ করা হচ্ছে। ভিকটিমরা ভয়ে আছে। এসব থ্রেট করার প্রমাণ গুম কমিশনে রয়েছে। কমিশন গুম-খুনের জন্য জিয়াউল আহসানসহ ২৩ জন কমান্ডারকে চিহ্নিত করেছে।</p>
<p>জিয়াউল আহসান সম্পর্কে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া</p>
<p>র‌্যাবে কর্মরত থাকাকালে জিয়াউল আহসান কীভাবে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছিলেন, সে সম্পর্কে লিখেছেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া। তিনি তার ফেসবুক পোস্টে ‘বিজিবি, র‌্যাব, এসএসএফ ও আনসার নিয়ে আমার যত অভিজ্ঞতা’ বিষয়ে জিয়াউল আহসানকে নিয়ে লেখেন : “যে বিষয়টি আমাকে সবচেয়ে বেশি পীড়া দিত, তা ছিল র‍্যাব-এ প্রেষণে থাকা আমাদের অফিসারদের দ্বারা সাধারণ নাগরিক, রাজনৈতিক কর্মী বা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের অপহরণ ও হত্যা।</p>
<p>তরুণ, ক্যারিয়ারমুখী অফিসারদের র‍্যাবে পাঠানো হতো, সেখানে কিছুদিন কাজ করে তারা এমন এক চরিত্র নিয়ে ফিরত, যেন তারা পেশাদার খুনি। একই প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছিল জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার (জেসিও), নন-কমিশন্ড অফিসার (এনসিও) এবং সৈনিকদের মধ্যেও। আমি সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই চাইছিলাম তাদের সেনাবাহিনীতে ফিরিয়ে আনা হোক। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে জানালে তিনি আমার কথায় সম্মতিসূচক ইঙ্গিত দিলেন, এমনকি বললেন জাতীয় রক্ষীবাহিনী থেকেও র‍্যাব খারাপ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিছুই বাস্তবে রূপ নেয়নি।</p>
<p>কয়েক দিন পর আমি কর্নেল (পরে লেফটেন্যান্ট জেনারেল ও ডিজি এসএসএফ) মুজিবকে—যিনি তখন র‍্যাবের এডিজি (ADG) ছিলেন—ডেকে বলি যেন তিনি লেফটেন্যান্ট কর্নেল (এখন মেজর জেনারেল) জিয়াউল আহসানকে নিয়ন্ত্রণে রাখেন এবং আর যেন কোনো ‘ক্রসফায়ার’ না ঘটে। কর্নেল মুজিব এ ব্যাপারে আমাকে কথা দেন এবং বিদায় নেওয়ার সময় তাকে বেশ উদ্বিগ্ন মনে হয়। পরের কয়েক দিন পত্র-পত্রিকা লক্ষ করলাম, নতুন কোনো ক্রসফায়ারের খবর নেই—এতে মানসিকভাবে কিছুটা স্বস্তি পেলাম।</p>
<p>এরপর কর্নেল মুজিব একাধিকবার আমাকে এসে জানিয়েছিলেন, সত্যিই ক্রসফায়ারের ঘটনা বন্ধ হয়েছে। কিছুদিন পর আমি বুঝতে পারি ঘটনা ঠিকই ঘটছে কিন্তু সেগুলোর খবর চাপা দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটে যখন কর্নেল মুজিব র‍্যাব ছেড়ে অন্যত্র বদলি হয়ে যান, আর কর্নেল জিয়াউল আহসানÑযিনি আগে র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার দায়িত্বে ছিলেনÑনতুন ডিজি বেনজীর আসার সঙ্গে সঙ্গে এডিজি র‍্যাব হিসেবে দায়িত্ব নেন।</p>
<p>এরপর আর্মি নিরাপত্তা ইউনিট (ASU) সূত্রে খবর পাই যে, কর্নেল জিয়া নিজের আবাসিক টাওয়ারে একজন গার্ড রেখেছেন, বাসায় অস্ত্র রাখছেন এবং পুরো ফ্ল্যাটে সিসিটিভি বসিয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে তাকে বলা হয় গার্ড সরিয়ে নিতে, ক্যামেরাগুলো খুলে ফেলতে, বাসায় অস্ত্র রাখা থেকে বিরত থাকতে এবং অফিসিয়াল কোয়ার্টারে যে সামরিক নিয়মকানুন আছে, সেগুলো মেনে চলতে।</p>
<p>পরবর্তীকালে তার আচরণ আরো উচ্ছৃঙ্খল হয়ে ওঠে। ডাইরেক্টর মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স (DMI) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জগলুল তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন কিন্তু তাতে কর্নেল জিয়া কোনো কর্ণপাত করেননি। পরে আর্মি নিরাপত্তা ইউনিটের (ASU) কমান্ড্যান্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফজল তাকে আলাপের জন্য ডাকেন। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফজল আমাকে জানান, জিয়ার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মনে হয়েছে যেন সে এমন একজনের সঙ্গে কথা বলছে যার মস্তিষ্ক পাথর বা ইটের টুকরো দিয়ে ঠাসা—বোঝানোর কোনো উপায় নেই।”</p>
<p>সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল ইকবাল করিমের লেখা থেকে আরো জানা যায়, ঢাকা সেনানিবাসের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জিয়াউল আহসানকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছিলেন তিনি। তিনি এও লেখেন, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেনারেল তারিক সিদ্দিক, প্রধানমন্ত্রী মিলিটারি সেক্রেটারি ও অ্যাসিসট্যান্ট মিলিটারি সেক্রেটারির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগে জিয়াউল আহসান তার নির্দেশকে তখন চ্যালেঞ্জ করা শুরু করেন।</p>
<p>এত বড় সিরিয়াল কিলার বিশ্বে নেই</p>
<p>পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে কুখ্যাত ১৫ জন সিরিয়াল কিলারের কাহিনি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩০০ জনকে পর্যন্ত খুন করার ইতিহাস রয়েছে। যিনি তিন বা ততোধিক ব্যক্তিকে হত্যা করে অস্বাভাবিক মানসিক তৃপ্তিলাভ করেন, পুলিশের ভাষায় সেই ব্যক্তি ‘সিরিয়াল কিলার’। অর্থাৎ, যে ধারাবাহিক বা একের পর এক মানুষ হত্যা করে, তাকেই সিরিয়াল কিলার বলা হয়।।</p>
<p>খুনের নেশায় মত্ত থাকে সিরিয়াল কিলাররা। বিশ্বের কুখ্যাত এই সিরিয়াল কিলারদের ভয়ংকর কাহিনিকে ম্লান করে দিয়েছেন জিয়াউল আহসান। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিপ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের বক্তব্যে এসেছে, জিয়াউল আহসান ১ হাজার ৩০ জনকে গুম-খুন করেছেন অত্যন্ত নৃশংস বীভৎসতায়। এর আগে বাংলাদেশে সিরিয়াল কিলার হিসেবে খুলনার এরশাদ শিকদার ও চাঁদপুরের রসুখাঁর কাহিনি চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল।</p>
<p>ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতি, দুদকের মামলা</p>
<p>শুধু গুম-খুন, নৃশংসতাই নয়, মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানের নামে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম-দুর্নীতি ও ঘুস নেওয়ার মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। একটি সূত্রে জানা গেছে, স্ত্রী নুসরাত জাহান ও জিয়াউল আহসানের নামে-বেনামে অন্তত ৫ হাজার কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন তাদের নামে ২৪ জানুয়ারি মামলা করেছে। তাদের ১২টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৩৪২ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।</p>
<p>দুদক অনুসন্ধান করে জানিয়েছে, জিয়াউল আহসান অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডার নাগরিকত্ব নিয়ে সেদেশে বিপুল টাকা বিনিয়োগ করেছেন। তিনি দুবাই, মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রেও বিপুল টাকা পাচার করেছেন। দুদক সূত্র জানায়, স্পেস ইনোভেশন লিমিটেড নামে জিয়াউল আহসানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে একটি ব্যাংক হিসাবেও ২৭ কোটি ১০ লাখ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া তার দুটি প্রতিষ্ঠান এআই ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ও এআই ল্যান্ডস্কেপ লিমিটেডের নামে ২৫ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য রয়েছে।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://amadersomoy.net/archives/24215/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>শেখ হাসিনার কার্যালয়ের ১৫ গাড়িচালকের প্লট বরাদ্দ বাতিল</title>
		<link>https://amadersomoy.net/archives/24113</link>
					<comments>https://amadersomoy.net/archives/24113#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Masteradmin]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 15 Aug 2025 09:43:07 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[2ndlead]]></category>
		<category><![CDATA[অপরাধ]]></category>
		<category><![CDATA[শিরোনাম]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://amadersomoy.net/?p=24113</guid>

					<description><![CDATA[রাজউকের ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ের ১৫ জন গাড়িচালকের নামে দেয়া প্লট বরাদ্দ বাতিল করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, বিধিমালার ব্যত্যয় করে নিয়মবহির্ভূতভাবে তাদেরকে মোট ৫১ কাঠার প্লট দেয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. নুরুল [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>রাজউকের ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ের ১৫ জন গাড়িচালকের নামে দেয়া প্লট বরাদ্দ বাতিল করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।<br />
এতে বলা হয়, বিধিমালার ব্যত্যয় করে নিয়মবহির্ভূতভাবে তাদেরকে মোট ৫১ কাঠার প্লট দেয়া হয়েছিল।<br />
বৃহস্পতিবার গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. নুরুল আমিনের স্বাক্ষরিত চিঠিতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যানকে জরুরি ভিত্তিতে এসব প্লট বাতিলের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।<br />
যাদের প্লট বাতিল করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন গাড়িচালক বোরহান উদ্দিন, মো. বেলাল হোসেন, সাইফুল ইসলাম, সফিকুল ইসলাম, মতিউর রহমান, নুর হোসেন, মাহবুব হোসেন, মো. শাহীন, মিজানুর রহমান, বাচ্চু হাওলাদার, নুরুল ইসলাম ও রাজন মাদবর। তাদের নামে তিন কাঠার প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া গাড়িচালক নুরুল আলম, নুর নবী ও মো. শাহীনের নামে বরাদ্দকৃত ৫ কাঠার প্লটও বাতিল করা হয়েছে।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://amadersomoy.net/archives/24113/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>এবার ডিপিএইচইতে লাইসেন্স বিহীন ঠিকাদার নেতা!</title>
		<link>https://amadersomoy.net/archives/23916</link>
					<comments>https://amadersomoy.net/archives/23916#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Masteradmin]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 11 Aug 2025 10:33:24 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[অপরাধ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://amadersomoy.net/?p=23916</guid>

					<description><![CDATA[ঢাকা: সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ঠিকাদার সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটি নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে কতিপয় ব্যক্তি গত ৫ আগষ্টের পর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। তথ্য রয়েছে নাম সর্বস্ব এ সংগঠনটিতে কোন ধরনের কাউন্সিল বা নির্বাচন ছাড়াই স্বঘোষিত সভাপতি হিসেবে যুবদল নেতা দীপু সরকার এবং সাধারন-সম্পাদক হিসেবে ঠিকাদার কুদ্দুস মোল্লা নিজেদের নাম [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>ঢাকা: সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ঠিকাদার সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটি নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে কতিপয় ব্যক্তি গত ৫ আগষ্টের পর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।</p>
<p>তথ্য রয়েছে নাম সর্বস্ব এ সংগঠনটিতে কোন ধরনের কাউন্সিল বা নির্বাচন ছাড়াই স্বঘোষিত সভাপতি হিসেবে যুবদল নেতা দীপু সরকার এবং সাধারন-সম্পাদক হিসেবে ঠিকাদার কুদ্দুস মোল্লা নিজেদের নাম নিজেরাই ১০জনের পদ ঘোষনা করেন।</p>
<p>জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে চলছে ব্যপক অরাজকতা। এই কুদ্দুস মোল্লা ৫ আগষ্টের আগেও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে আওয়ামী প্রভাবশালী বিভিন্ন ঠিকাদারদের সাথে মিলে সুবিধাভোগী হয়ে কাজ করতেন। গণঅভ্যূথানে আওয়ামী সরকারের পতনের পর তিনি নিজেকে বিএনপির বর্ষীয়ান রাজনীতীবিদ পরিচয় দিয়ে এবং বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ঠিকাদার কেন্দ্রীয় কমিটির ব্যানারে আওয়ামী পন্থী ঠিকাদারদের কাছ থেকে বেপরোয়া চাদাঁবাজি ও অরাজকতা শুরু করেন।</p>
<p>এছাড়াও ক্ষমতা জাহিরের অপচেষ্টা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মত সরকারি ভবনে রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে বিএনপিকে বির্তকিত বানাচ্ছেন কুদ্দুস মোল্লারা। </p>
<p>এর মধ্যে যুগ্ম-সম্পাদক -হেদায়েত হোসেন মিথ্যা পরিচয় দিয়ে নেতা হন (মেসার্স সার্কেল লজিস্টিক) এই নামে তার কোন ঠিকাদারী লাইসেন্স নেই। জানা গেছে  সার্কেল লজিস্টিকের মালিক  নার্গিস আক্তার এক মহিলা। লাইসেন্স না থাকা সত্বেও সে কেবলমাত্র সমিতির নাম ভাঙিয়ে কেবল ফায়দা লোটার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। জানা গেছে হেদায়েত হোসেন আওয়ামীলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং জ্যাকবের সঙ্গে রয়েছে তার সখ্যতা। লাইসেন্স বিহীন হেদায়েত কিভাবে নেতা হলেন এই প্রশ্নে ক্ষোভে ফুসছেন অনেক ঠিকাদার।<br />
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক জন ঠিকাদার জানান যেহেতু ঠিকাদার নেতা হতে লাইসেন্স লাগেনা আমরাও বহিরাগতদের নিয়ে যেকোন সময় পাল্লা কমিটি ঘোষনা দিবো।</p>
<p><strong>লাইসেন্স না থাকা সত্বেও ঠিকাদারী ব্যবসা পরিচালনা যা আইন ও নিয়ম লঙ্ঘনের শামিল। </p>
<p>সংক্ষেপে, এখানে কিছু বিষয় তুলে ধরা হলো: </strong></p>
<p>ঠিকাদারি লাইসেন্স: সাধারণত, ঠিকাদারি ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য একটি ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন (ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর) সার্টিফিকেট এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক লাইসেন্স/অনুমোদন প্রয়োজন হয়।<br />
নিয়ম লঙ্ঘন: লাইসেন্সবিহীন ঠিকাদারি কার্যক্রম আইনত দণ্ডনীয় এবং এটি সরকারের রাজস্ব হারানোর কারণ হতে পারে।<br />
ঝুঁকি: লাইসেন্সবিহীন ঠিকাদাররা সাধারণত কাজের গুণগত মান এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, যা প্রকল্পের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।<br />
অভিযোগ: অনেকেই এই ধরনের লাইসেন্সবিহীন কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছেন এবং কর্তৃপক্ষের কাছে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।</p>
<p><strong>প্রতিকার: </strong>এই ধরনের কার্যকলাপ বন্ধ করতে হলে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি এবং লাইসেন্সবিহীন ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।</p>
<p>লাইসেন্স ছাড়া ঠিকাদারি ব্যবসা পরিচালনা করা বাংলাদেশে বেআইনি এবং এটি একটি দন্ডনীয় অপরাধ। সেই হেদায়েতের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবী।</p>
<p>অনুসন্ধানে জানা গেছে ঠিকাদার সমিতির নাম দিলেও এ সংগঠনটির অধিকাংশ সদস্যই বহিরাগত এবং ডিপিএইচইর তালিকাভুক্ত ঠিকাদার নন।</p>
<p>অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রায় ১৮-২০ বছর আগে তিনি যুবদল এর রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে তিনি ঠিকাদার ব্যবসার স্বার্থে আওয়ামীলীগ বনে যান। আওয়ামীলীগ ঠিকাদারদের সাথে জোগসাজস করে দীর্ঘদিন ব্যবসা করে আসছিলেন।</p>
<p>৫ আগষ্ট এর গণ-অভূথ্যানে হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি আবার ভোল পাল্টে বিএনপি বনে যান। গিরগিটির মত রং পরিবর্তন কারী কুদ্দুস মোল্লার বিরুদ্ধে রয়েছে মদ পান ও নারী কেলেংকারীর একাধিক অভিযোগ।</p>
<p>সাবেক যুবলীগ নেতা সম্রাট এর ছত্রছায়ায় তিনি দাপট দেখিয়ে ঠিকাদারী ব্যবসা বাগিয়ে নেন এমন অভিযোগ রয়েছে।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://amadersomoy.net/archives/23916/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>শেখ মুজিবের মূল্যবান ব্রোঞ্জের মুর‌্যাল ভাঙার হিসাবে গড়মিল, বেতারের ডিজি-পিডি নিচ্ছেন না দায়</title>
		<link>https://amadersomoy.net/archives/23845</link>
					<comments>https://amadersomoy.net/archives/23845#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Masteradmin]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 10 Aug 2025 09:00:35 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[2ndlead]]></category>
		<category><![CDATA[অপরাধ]]></category>
		<category><![CDATA[শিরোনাম]]></category>
		<category><![CDATA[বেতারের ডিজি-পিডি নিচ্ছেন না দায়]]></category>
		<category><![CDATA[শেখ মুজিবের মূল্যবান ব্রোঞ্জের মুর‌্যাল ভাঙার হিসাবে গড়মিল]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://amadersomoy.net/?p=23845</guid>

					<description><![CDATA[ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর গত এক বছরে প্রশাসনের বিভিন্ন পদে রদবদল হয়েছে। পতিত স্বৈরাচারের চিহ্নিত দোসরদের সরিয়ে প্রশাসনে শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রায় চারমাস পর বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পান এ এস এম জাহিদ। তবে তিনি শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এবং ২০১০ সালের [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর গত এক বছরে প্রশাসনের বিভিন্ন পদে রদবদল হয়েছে। পতিত স্বৈরাচারের চিহ্নিত দোসরদের সরিয়ে প্রশাসনে শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রায় চারমাস পর বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পান এ এস এম জাহিদ। তবে তিনি শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এবং ২০১০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের প্রেস উইং এর সদস্য ছিলেন। বাংলাদেশ বেতারের মূল ফটকের সামনে স্থাপিত শেখ মুজিবর রহমানের ভেঙে ফেলা ম্যুরালের ব্রোঞ্জের হিসাবে গড়মিলসহ বেশ কিছু অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ডিজি জাহিদের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগে তিনি (ডিজি) ও তার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন কর্মকর্তার নাম জড়িত রয়েছে। এরইমধ্যে এ বিষয়ে বেতারের কর্মকর্তা কর্মচারীদের পক্ষ থেকে তথ্য উপদেষ্টা বরাবর একটি অভিযোগ জমা দেয়া হয়েছে। </p>
<p>ডিজি জাহিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, ম্যুরালের কিছু অংশ নিজস্ব লোকদের মাধ্যমে রাতের আধারে লোপাট  করা হয়েছে। ফলে লাখ লাখ টাকার ব্রোঞ্জ ডিজি আত্মসাৎ করেছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে যার সিসি ক্যামেরার আওতায় রাখা হয়নি।</p>
<p>ওই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ বেতারের মূল ফটকের সামনে স্থাপিত শেখ মুজিবর রহমানের ব্রোঞ্জের ম্যুরালের কিছু অংশ নিজস্ব লোকদের মাধ্যমে রাতের আধারে লোপাট  করা হয়েছে। ফলে লাখ লাখ টাকার ব্রোঞ্জ  ডিজি লোপাট করে, যা ইচ্ছাপূর্বক সিসি ক্যামেরার আওতায় রাখা হয়নি।</p>
<p>অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়, আগারগাঁও বেতার অফিসের ৩-৪টি গাড়ি ও কল্যাণপুর বেতার অফিসে ৪-৫টি পুরাতন গাড়ি (যার ইঞ্জিনসহ সম্পূর্ণ অংশ) মহাপরিচালক তার নিজের সকল দুর্নীতির তত্ত্বাবধায়ক বেতারে কর্মরত মনিটরিং পরিদপ্তর শাখায় কর্মরত সামান্য অনিয়মিত শিল্পী জনাব ইমনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিক্রি করে ফেলে। এক্ষেত্রে লাখ লাখ টাকার ৮-১০টি গাড়ি নামে মাত্র মূল্য দেখিয়ে অকেজো মালামাল হিসেবে উল্লেখ করে ব্যাক ডেটে নিলাম অনুমোদন দেখানোর চেষ্টা করা হয়। সম্প্রতি বাংলাদেশ বেতার, সদর দপ্তরের বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল অকেজো দেখিয়ে, এমনকি দপ্তরের জেনারেটর সহ মূল্যবান যন্ত্রাংশ অকেজো দেখিয়ে নাম উল্লেখ না করে বিক্রি করে দেয়।</p>
<p>এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগ হলো- সবশেষ ঈদুল আজহায় সাভারের রেডিও কলোনী আবাসিক এলাকার বাংলাদেশ বেতারের সীমানা প্রাচীর ভেঙে সেখানে অবৈধভাবে গরুর হাট বসানোর চেষ্টা করা।</p>
<p>যদিও এসব অভিযোগগুলো তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে খতিয়ে দেখার জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু সে অনুযায়ী কাজের কোনও অগ্রগতি দেয়া যায়নি। এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা যেতে পারে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বর্তমান সচিব মাহবুবা ফারজানা তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু।</p>
<p>ডিজি জাহিদ বলেন, সে আমার ব্যাচমেট না! সে তো আমার ব্যাচম্যাট। ও তো খুব কনর্সান। কারণ আমরা তো অনেক আগে থেকে পরিচিত। ওর স্বামী হলো নাজমুল। আমরা এক সঙ্গে মাননীয় প্রধামন্ত্রীর দপ্তরে কাজ করতাম।</p>
<p>বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আাইনজীবী ব্যারিষ্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এ বিষয়ে বলেন, এস এম জাহিদের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে শিল্পীরাও দুদকে অভিযোগ দিয়েছিল। কিন্তু তার বিরুদ্ধে দুদক থেকে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। আমিও শিল্পীদের পক্ষ থেকে একটি নোটিশ দিয়েছিলাম। সেটিও অদৃশ্য কোনো শক্তির কারণে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। একজন ফ্যাসিস্ট সরকারের এতো বড় গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকা রাষ্ট্রের জন্য হুমকির।</p>
<p>শেখ মুজিবুর রহমানের মুর‌্যালের ব্রোঞ্জ লোপাটের অভিযোগে সরেজমিনে বাংলাদেশ বেতারে গেলে শুরু হয়ে যায় সংস্থাটির কর্মকর্তাদের লুকোচুরি। প্রায় ১৫ টনের এই মুর‌্যালের প্রকল্পে খরচ করা হয়েছে ছয় কোটি টাকারও বেশি। পরবর্তীতে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারণে সেটি ভেঙে ফেলেন বেতার কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ব্রোঞ্জ নির্মিত মুর‌্যাল ভাঙার পরই কিছু অংশ সরিয়ে ফেলার অভিযোগ উঠে ডিজি জাহিদ ও প্রকল্প পরিচালক (পিডি) প্রধান ইঞ্জিনিয়ার প্রবাল কান্তি দাশের বিরুদ্ধে।</p>
<p>ব্রোঞ্জ লোপাটের অভিযোগটি প্রবাল কান্তি দাশের সামনে তুলে ধরলে তিনি বলেন, শেখ মুজিবুর রহমানের ব্রোঞ্জ তৈরির প্রজেক্টে আমার দায়িত্বে সম্পন্ন হয়েছে। যারা তৈরি করেছে তারা আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছে। কিন্তু উদ্বোধনের আগেই সরকার পতন ঘটে। তাই সেটি ভেঙে ফেলতে হয়েছে।ভাঙার পর ১৪ হাজার কেজির কিছু বেশি ব্রোঞ্জ আমাদের কাছে মজুদ আছে এবং সেগুলো একটি কক্ষে সিলগালা করে রাখা আছে।</p>
<p>যদিও মুর‌্যালটির ওজন ছিল প্রায় ১৫ হাজার কেজি। তবে ভেঙে ফেলার পর বর্তমানে ১৪ হাজার কেজিরও বেশি ব্রোঞ্জ রয়েছে বলে দাবি করা হলেও, অবশিষ্ট অংশ কোথায় গেছে সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি বাংলাদেশ বেতারের এ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। এছাড়া ‘বর্তমানে ১৪ হাজার কেজিরও বেশি ব্রোঞ্জ রয়েছে’ এমন দাবি প্রমাণে কোনো দালিলিক প্রমাণও দেখাতে পারেননি তিনি।</p>
<p>প্রবাল কান্তি দাশ বলেন, এ বিষয়ে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অনুষ্ঠান)আনোয়ার হোসেন মৃধা। ওনার কাছেই বিস্তারিত তথ্য পাবেন। যদিও তিনি নিজেই ওই কমিটির সদস্য সচিব ছিলেন। এ বিষয়ে তার বক্তব্য, প্রতিবেদনের কোন কপি আমাকে দেয়া হয়নি। কমিটির আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন মৃধার কাছে গেলে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন।</p>
<p>কমিটির আহ্বায়ক আনোয়ার মৃধার কাছে সেই প্রতিবেদনের কপি চাইলে তিনিও কোনো প্রকার প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হন। তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরদিন একটি ‘মব’ এসে ভাঙচুর করেন। পরে আমার নিজেরাই ভেঙে নিয়ে আসি এবং একটি কক্ষে সিলগালা করে রাখি।</p>
<p>বাস্তবিক অর্থে বাংলাদেশ ভেতারে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে আজ পর্যন্ত কোনো প্রকার মব সৃষ্টি হয়নি।  ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে দেশের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানে হামলা হলেও নিরাপদে ছিল বাংলাদেশ বেতার। </p>
<p>এ বিষয়ে ডিজি জাহিদ বলেন, ৫ আগস্ট আমাদের তৎকালীন মহাপরিচালক (ডিজি) রবীন্দ্র শ্রী বড়ুয়াকে (বর্তমানে ওএসডি) বলছি স্যার আপনি চলে যান। ওই সময় এক আর্মি অফিসার এসে আমাকে বলেছেন এখানে হেড কে? তখন আমি বললাম আমিই এখানকার হেড। তখন ওই অফিসার দ্রুত আমাকে মুর্তিটি ভাঙতে বলে। যদি না ভাঙেন তাহলে জণগণ আসবে। আমরা কিন্তু তখন ঠেকাতে পারবো না। তখন আমি দয়িত্ব নিয়ে প্রবল বাবুকে ডাকলাম, তাকে বললাম দ্রুত এটা ভেঙে ফেলেন।</p>
<p>তারপর আর্মির পরামর্শে দআমি আমার লোকজোন লাগিয়ে দ্রুত নিচের বেজম্যান্ট, টাইলস ভাঙা শুরু করলাম। সেদিন কিন্তু আমরা মুর্তি ভাঙতে পারি নাই। তবে আমরা এমন ভাব করেছি যে মুর্তিটা ভাঙা হচ্ছে। </p>
<p>পরে পিডি প্রবল বাবু বা অন্য কেউ মুর্তিটাকে কাটলো। কে কেটেছে আমি জানি না। কেটে মুর্তির ব্রোঞ্জগুলো নিচে ফেলে রেখেছে।  যার পরিমাণ হবে ১৪ টন ৩০০ কেজির মতো, যুক্ত করেন জাহিদ।</p>
<p>তিনি বলেন, আমাদের পিডি (প্রবাল কান্তি দাশ) অনেক চালাক, বড় ইঞ্জিনিয়ার তো। পিডি হতে লাখ লাখ টাকা খরচ করতে হয়। পিডির বিরুদ্ধে রিপোর্ট করেন বা না করো, এই পিডি এতো সহজে পার পাবে না। এতো সহজে ছাড়া হবে না। আপনি কি ভেবেছেন এটা বেতারের জিনিস, যে পার পেয়ে যাবেন। </p>
<p>এরপর বেতারের ডিজির কাছে একই তথ্য বা দালিলিক প্রমাণ চাইলে তিনিও আমাদের চার দিন পরে যেতে বলেন বেতারে। তিনিও কোনো প্রকার লিখিত কাগজ বা ব্রোঞ্জের সঠিক তথ্য দিতে পারেননি। তিনি প্রতিবেদন না দিয়ে বরং পিডি প্রবাল কান্তি দাশ এবং আনোয়ার মৃধার উপর দায় বর্তান। বলেন, ‘আমিও কোন প্রতিবেদন পাইনি।’</p>
<p>কিন্তু ডিজির দায়িত্বে থেকে আপনি এ দায় এড়াতে পারেন কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে অনেকটা অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, ডিজির দায়িত্ব নেয়ার আগে আমি মানসিকভাবে বেশ ভালো ছিলাম। এ দায়িত্ব নেয়ার পর অনেক ধরনের ঝামেলা মধ্যে রয়েছি। যে বিষয়ে দায়িত্ব নেয়ার কথা প্রকল্প পরিচালকের সেখানে সব বিষয়ে আমার উপর দায় আসছে।</p>
<p>ব্রোঞ্জ মাপা এবং সংরক্ষণের সাত সদস্যের কমিটিতে ছিলেন বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স সেন্টার (বিটাক) উপ পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম। তার কাছে এই সংক্রান্ত তথ্য চাইলে তিনি প্রথমে আমাদেরকে ব্রোঞ্জ বিষয়ক তথ্য প্রদান এবং লিখিত প্রমাণ দেখানোর কথা শিকার করেন। পরবর্তীতে তিনি বলেন, আমি অফিসের বাইরে আছি। এ মূহুর্তে আমার কাছে প্রতিবেদনটি নেই। আগামীকাল অফিসে আসেন। তবে যাওয়ার পর তিনি প্রতিবেদন দিতে অস্বীকৃতি জানান।</p>
<p>তিনি বলেন, ব্রোঞ্জ মাপার পর যে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। সে প্রতিবেদন কমিটির আহ্বায়ক আনোয়ার মৃধার কাছে আছে। সেই প্রতিবেদনে আমার স্বাক্ষর রয়েছে।</p>
<p>শেষ পর্যন্ত ব্রোঞ্জ সংরক্ষণে রাখার সঠিক কোনো তথ্য, প্রমাণ দেখাতে পারেনি বাংলাদেশ বেতারের ডিজি জাহিদ, পিডি প্রবাল কুমরা, তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক আনোয়ার মৃধা ও বিটাকের উপ পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম।</p>
<p>এছাড়া বাংলাদেশ বেতারের গোপালগঞ্জ ও ময়মনসিংহ কেন্দ্রের বার্তা বিভাগে অনিয়মিত শিল্পী নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নীতিমালা লঙ্ঘন করে ২০২২ সালে ৪৬ জন অনিয়মিত শিল্পীকে কোনো ধরনের অডিশন ছাড়াই চুক্তিবদ্ধ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রত্যেক শিল্পীর কাছ থেকে ২ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেয়া হয়, যার অধিকাংশ লেনদেন হয়েছে নগদে এবং কিছু সরাসরি বাংলাদেশ বেতারের আগারগাঁও, সাবেক ডিডি মো. জাকির হোসেনের ব্যক্তিগত ব্যাংক একাউন্টে জমা হয়।</p>
<p>জাকির হোসেনের ব্যাংক হিসাব বিশ্লেষণে দেখা যায়, জাকিরের দুটি একাউন্টে ৩২ মাসে জমা হয়েছে এক কোটি ২৮ লাখ টাকা, যার বড় অংশ এসেছে বেনামি উৎস থেকে। একই সময় তিনি ৩৫১ বার এটিএম থেকে টাকা উত্তোলন করেছেন।</p>
<p>ঘুষ দিয়ে চাকরি নেয়া এমন বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয় । তারা জানিয়েছেন, চাকরির বিনিময়ে কেউ দিয়েছেন তিন লাখ, কেউবা পাঁচ লাখ টাকা। অভিযোগ উঠেছে, এসব টাকা নগদে নেওয়া হয়েছে এবং জাকিরের নাম ব্যবহার করে তা আদায় করা হয়েছে।</p>
<p>এদিকে গত ঈদুল আজহায় ঢাকার সাভার পৌর এলাকায় ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে সরকারি আবাসিক এলাকার (সাভার রেডিও কলোনি) জমিতে অবৈধভাবে পশুর হাট বসানোর অভিযোগ উঠে ডিজি জাহিদের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনে পাল্টাপাল্টি আবেদনের কারণে হাটটি উচ্ছেদ করা হয় হয়।</p>
<p>পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশু কেনাবেচার জন্য এ বছর পৌর এলাকায় একটি  হাটের ইজারা দেয়া হয়েছিল। ইজারার শর্ত অনুযায়ী, পৌর এলাকার গেন্ডা বালুর মাঠে হাট বসানোর কথা। কিন্তু ইজারাদার হাট বসিয়েছেন পৌরসভার রেডিও কলোনি এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে বাংলাদেশ বেতারের আবাসিক এলাকায় মধ্যে। এ জন্য বেতারের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক এলাকার একটি প্রাচীর ভেঙে ফেলা হয়।</p>
<p>এ বিষয়ে ইজারাদাররা বলেন, বেতারের পক্ষ থেকে অনুমতি নেয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই ইজারাদার কোনো অনুমতিপত্র দেখাতে পারেননি। নির্ধারিত জায়গার পরিবর্তে অন্য জায়গায় অবৈধভাবে পশুর হাট বসানোর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঢাকার জেলা প্রশাসক অবৈধ হাটটি উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছিলেন।</p>
<p>আবাসিক এলাকার প্রাচীর ভাঙার বিষয়ে জানতে চাইলে মহাপরিচালক বলেন, তারা আমাদের না জানিয়ে ভেঙেছে। পরে তারা নিজেরাই আবার দেয়াল তৈরি করে দিয়েছে। কিন্তু সরকারি আবাসিক এলাকার দেয়াল বেতারের অনুমতি ছাড়া ভাঙার পরেও কেনো ধরনের আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি এমন প্রশ্নের কোন উত্তরও দিতে পারেননি বেতারের এ মহাপরিচালক। তিনি হেসে বলেন, ‘এভাবে প্রশ্ন করা হলে আমার তো কোনো উত্তর থাকে না’।</p>
<p>সার্বিক বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকার যেকোনো কর্মকর্তাকে দায়িত্ব অনুযায়ী উপযুক্ত পদে নিয়োগ দিতে পারেন, তবে সেই পদায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যখন বিষয়টি বাংলাদেশ বেতারের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত, তখন নিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অতীত কর্মকাণ্ড ও অভিযোগসমূহ খতিয়ে দেখা জরুরি।</p>
<p>তিনি বলেন, কাউকে এমন দায়িত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেয়ার আগে অবশ্যই যাচাই-বাছাই করা উচিত। যদি তার বিরুদ্ধে কোনো গুরুতর অভিযোগ থাকে, তা হলে তা তদন্ত করে দেখা জরুরি। কারণ একজন কর্মকর্তা হিসেবে তিনি সরকারের পক্ষে সুবিধা নিচ্ছেন এবং দিচ্ছেন- তাই তিনি দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারেন না।</p>
<p>টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, এই ধরণের দায়িত্বপূর্ণ পদে কেউ যদি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কাজের সঙ্গে জড়িত থাকেন, তবে তদন্তসাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। দায়িত্বশীল পদে থেকে কেউ যদি ব্যক্তিস্বার্থে প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করেন, তা কখনোই মেনে নেয়া যায় না।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://amadersomoy.net/archives/23845/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ফের ঢাকা মেডিকেলে ভুয়া নারী চিকিৎসক আটক</title>
		<link>https://amadersomoy.net/archives/23798</link>
					<comments>https://amadersomoy.net/archives/23798#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Masteradmin]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 17 Nov 2024 12:29:53 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Leadnews]]></category>
		<category><![CDATA[অপরাধ]]></category>
		<category><![CDATA[শিরোনাম]]></category>
		<category><![CDATA[ফের ঢাকা মেডিকেলে ভুয়া নারী চিকিৎসক আটক]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://amadersomoy.net/?p=23798</guid>

					<description><![CDATA[ফের ঢাকা মেডিকেলের পুরাতন ভবনের নাক কান ও গলা বিভাগ থেকে পাপিয়া আক্তার স্বর্ণা নামে এক ভুয়া নারী চিকিৎসকে আটক করেছে মেডিকেলের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা। রবিবার (১৭ নভেম্বর) দুপুর পৌনে ১টার দিকে আটক করা হয় তাকে। হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের প্লাটুন কমান্ডার পিসি মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>ফের ঢাকা মেডিকেলের পুরাতন ভবনের নাক কান ও গলা বিভাগ থেকে পাপিয়া আক্তার স্বর্ণা নামে এক ভুয়া নারী চিকিৎসকে আটক করেছে মেডিকেলের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা। রবিবার (১৭ নভেম্বর) দুপুর পৌনে ১টার দিকে আটক করা হয় তাকে। হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের প্লাটুন কমান্ডার পিসি মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।</p>
<p>তিনি বলেন, আজ সকালের দিকে আমাদের টহল টিমের আনসার সদস্যরা প্রতিদিনের মতো নিয়মিত টহল দেওয়ার সময় পুরাতন ভবনের তৃতীয় তলায় একজন মেডিকেল শিক্ষার্থী জানায়, তার নামের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ বহিরাগত আরেক নারী চিকিৎসকের এপ্রোন পরে ঘোরাফেরা করছে। বিষয়টি সন্দেহ হলে আনসার সদস্যরা ওই ওয়ার্ডে কর্মরত চিকিৎসকদের ডেকে অভিযুক্ত ওই নারীকে দেখান। কিন্তু ঢাকা মেডিকেলের কোনো চিকিৎসক তাকে চেনেন না বলে জানান তারা।</p>
<p>পরে ওই অভিযুক্ত নারীকে প্রশাসনিক ভবনে হাসপাতালের পরিচালক এবং উপ-পরিচালকের কাছে নিয়ে আসেন। হাসপাতালের পরিচালক ও উপ-পরিচালকের পরামর্শ মতে অভিযুক্ত ওই ভুয়া নারী চিকিৎসককে ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুকের কাছে সোপর্দ করা হয় বলে জানান মিজানুর রহমান।</p>
<p>অভিযুক্ত পাপিয়া আক্তার স্বর্ণা জানান, তিনি নরসিংদীর মনোহরদী সদরের আরওয়াদিয়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের মেয়ে। বর্তমানে বকশিবাজার এলাকায় ভাড়া থাকেন। তিনি ঢাকা মেডিকেলে কেন এসেছেন এর জবাবে অভিযুক্ত স্বর্ণা জানান, তিনি তার পূর্ব পরিচিত এক রোগীকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা করাতে এসেছেন।</p>
<p>চিকিৎসকের এপ্রোনটি কেন পড়েছেন এবং কোথায় পেয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি একটি ভুল করেছি ভবিষ্যতে আর এ কাজ করব না। এপ্রোনটি একটি টেইলার্সের দোকান থেকে বানিয়েছি। আমার ভুল হয়েছে আমি জীবনে আর এ ধরনের অপরাধ করব না।</p>
<p>এ বিষয়ে ঢামেক হাসপাতালে পরিদর্শক ফারুক বলেন, ইতোমধ্যেই আমরা বিষয়টি শাহবাগ থানা পুলিশকে জানিয়েছি। এ বিষয়ে পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে।</p>
<p>এর আগে, গত বছর ডিসেম্বরে মুনিয়া রোজা নামে এক ভুয়া নারী চিকিৎসকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে মামলা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://amadersomoy.net/archives/23798/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>সমবায় অধিদপ্তর জিম্মি ১২ জনে</title>
		<link>https://amadersomoy.net/archives/23560</link>
					<comments>https://amadersomoy.net/archives/23560#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Masteradmin]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 02 Nov 2024 02:47:55 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[2ndlead]]></category>
		<category><![CDATA[অপরাধ]]></category>
		<category><![CDATA[শিরোনাম]]></category>
		<category><![CDATA[সমবায় অধিদপ্তর জিম্মি ১২ জনে]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://amadersomoy.net/?p=23560</guid>

					<description><![CDATA[সমবায় অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রধান দায়িত্ব দেশের উন্নয়ন ও জনগণের সেবা নিশ্চিতের জন্য কাজ করা। কিন্তু সেই দায়িত্ব ভুলে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা ব্যস্ত থাকেন অনিয়ম-দুর্নীতি, লুটপাট ও ক্ষমতার দাপটে পদোন্নতি বাগিয়ে নেওয়ার অসম প্রতিযোগিতায়! এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে রয়েছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সাবেক এক মন্ত্রীর মদদপুষ্ট একটি সিন্ডিকেট। প্রভাব খাটিয়ে তারা অধিদপ্তর, জেলা ও থানা পর্যায়ে দায়িত্ব নিজেদের [&#8230;]]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>সমবায় অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রধান দায়িত্ব দেশের উন্নয়ন ও জনগণের সেবা নিশ্চিতের জন্য কাজ করা। কিন্তু সেই দায়িত্ব ভুলে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা ব্যস্ত থাকেন অনিয়ম-দুর্নীতি, লুটপাট ও ক্ষমতার দাপটে পদোন্নতি বাগিয়ে নেওয়ার অসম প্রতিযোগিতায়! এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে রয়েছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সাবেক এক মন্ত্রীর মদদপুষ্ট একটি সিন্ডিকেট। প্রভাব খাটিয়ে তারা অধিদপ্তর, জেলা ও থানা পর্যায়ে দায়িত্ব নিজেদের কবজায় রাখা, চুক্তিতে সমিতির নির্বাচন, নিয়োগ-বাণিজ্য, নিয়মবহির্ভূতভাবে পদ সৃষ্টি, ঘুষের বিনিময়ে পদোন্নতি, উন্নয়নের নামে সমিতির কোষাগারশূন্য, জাল সনদে চাকরি নেওয়াসহ বহুবিধ অপকর্ম করেও আছেন বহাল তবিয়তে। সবকিছু জেনেও হেলদোল নেই অধিদপ্তরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালক (ডিজি) মো. শরিফুল ইসলামের। সিন্ডিকেটের সদস্যদের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধেও। তাই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়ম-দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ার পরও নেওয়া হয় না কোনো ব্যবস্থা।</p>
<p>বরং অনিয়মের প্রতিবাদ করায় অনেককে বছরে দুই থেকে তিনবার বদলি করে হয়রানি করা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, বিগত সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের আশীর্বাদপুষ্টরাই ঢাকার ভেতরে পোস্টিংসহ সব সুযোগ-সুবিধা হাতিয়ে নিয়েছেন। এ নিয়ে মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দিয়েও সুফল মেলেনি।</p>
<p>ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের শুরু থেকেই সমবায় অধিদপ্তরে চলছে সিন্ডিকেটের অঘোষিত রাজত্ব! শরিফুল ইসলাম ডিজি হয়ে আসার পর সিন্ডিকেট ভাঙার উদ্যোগ না নিয়ে উল্টো হোতাদের সঙ্গে খাতির জমিয়ে তাদের আরও অনৈতিক সুবিধা দিয়েছেন এবং নিজেও নিয়েছেন। এই লেনদেন জারি রাখতে সাবেক মন্ত্রীর মদদে ওই সিন্ডিকেটকে আরও শক্তিশালী করেছেন শরিফুল।</p>
<p>সমবায় অধিদপ্তরে ডিজির আশীর্বাদপুষ্ট এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা হলেন অতিরিক্ত নিবন্ধক (প্রশাসন) হাফিজুল হায়দার চৌধুরী, উপনিবন্ধক (প্রশাসন) আতিকুল ইসলাম, যুগ্ম নিবন্ধক (প্রশাসন, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও ফাইন্যান্স) মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, যুগ্ম নিবন্ধক প্রশাসন রিক্তা দত্ত, ঢাকা বিভাগীয় সমবায় দপ্তরের যুগ্ম নিবন্ধক শেখ কামাল হোসেন, ঢাকা জেলা সমবায় অফিসার সাদ্দাম হোসেন; যিনি গোপালগঞ্জের ক্ষমতা দেখিয়ে ঢাকা ও গাজীপুর দুই জেলার দায়িত্ব পালন করেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা বাবলা দাশগুপ্ত ও তার ছোট ভাই সঞ্জয় দাশগুপ্ত, অফিস সহায়ক আমিনুল, নরসিংদী আঞ্চলিক সমবায় ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মো. আশরাফুল ইসলাম, চট্টগ্রামের জেলা সমবায় কর্মকর্তা মুরাদ আহমেদ, মেট্রো থানার অফিসার আলাউদ্দিন মোল্লা ও উপসহকারী নিবন্ধক আব্দুস সোবহান।</p>
<p>জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী আঁতাত করেই সমবায় অধিদপ্তরের ডিজি বানান শরিফুল ইসলামকে। নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে পরস্পর যোগসাজশে সরকারের এই প্রতিষ্ঠানটিকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন প্রভাবশালী এ দুই প্রতিমন্ত্রী। তাদের আস্থাভাজন হয়ে শরিফুল নিজে সুবিধা নিয়েছেন এবং পরিবারের অন্য সদস্যদেরও সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়েছেন। শরিফুলের স্ত্রী (জেলা প্রশাসক) ও ভাই মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। অবসরের পরও বড় ভাইকে (মো. ইদ্রিস আলী আইডি নং-৬০২৭) চুক্তিভিত্তিক প্রকল্প পরিচালক বানিয়েছেন শরিফুল। বিগত সরকারের আমলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সব সুযোগ-সুবিধা নিলেও আওয়ামী লীগের পতনের পর এখন নিজেকে বঞ্চিত দাবি করে ভোল পাল্টে ডিজি পদে বহাল আছেন শরিফুল।</p>
<p>নিয়োগ-বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য হাফিজ ও আতিকও আছেন স্বপদে। সরকার প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা খরচ করে ৫১১ জনকে নিয়োগের জন্য পরীক্ষার আয়োজন করলেও প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নিয়োগ-বাণিজ্যে শতকোটি টাকা হাতিয়ে নেন সিন্ডিকেটের সদস্যরা, পরবর্তী সময়ে তদন্তে তা প্রমাণিতও হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ডিজি শরিফুল ও আতিক-হাফিজ সিন্ডিকেট গত এক বছরে ২৬৭ জনকে বদলি করেছে।</p>
<p>বাবলা দাশগুপ্তর অফিস সহায়ক পদোন্নতিতে ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি প্রমাণিত হলেও ডিজি শরিফুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি। অথচ সমবায় বদলি ও নিয়োগ-বাণিজ্যের হোতা হিসেবে সবার কাছেই পরিচিত বাবলা। তারপরও তাকে শাস্তি না দিয়ে উল্টো তার ভাই সঞ্জয় দাশগুপ্তকেও জাল সনদে চাকরি দিয়েছেন ডিজি শরিফুল। সঞ্জয় দাশগুপ্তর শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জাল, সেটা তদন্তে প্রমাণিত হওয়ার পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কারণ মন্ত্রীর সঙ্গে বাবলার সখ্য।</p>
<p>এদিকে ডিজি মো. শরিফুল ইসলাম ও মন্ত্রণালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কর্মকর্তার যোগসাজশে এই ঘুষের বাজার এখনো চলছে। তার এই বদলি বাণিজ্য ‘ন্যায্যতা’ দিতে মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠি তৈরি করে নিয়েছেন। এ ছাড়া সমবায় অধিদপ্তরের আওতায় সব অফিস সহকারীর পদোন্নতির একটি তালিকা তৈরি করেছেন আগের মতো টাকা হাতিয়ে নিয়ে টাকার তালিকা পুনর্বিন্যাসের জন্য। বদলির তালিকা করে সিন্ডিকেট চক্র ২ থেকে ৫ লাখ পর্যন্ত টাকা ঘুষ নিচ্ছে বলে অভিযোগ আছে। নতুন করে এই বদলি তালিকায় দু্ই শতাধিক ব্যক্তির নাম আনা হয়েছে। যাদের কাছ থেকে প্রায় শতকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। চট্টগ্রামের জেলা সমবায় কর্মকর্তা মুরাদ আহমেদের দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ার পরও সমবায়ের ডিজি তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে স্বপদে বহাল রাখেন।</p>
<p>জানা যায়, সমবায় অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা বা উপসহকারী নিবন্ধকের কোনো পদ নেই। কিন্তু সংযুক্তিতে এই পদে প্রায় ৩৪ জন কর্মরত। একটি উপজেলা অফিসের অফিস প্রধানকে সংযুক্তি দিয়ে মাঠের কার্যক্রমকে চরমভাবে ব্যাহত করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন সমবায় কার্যালয়ে অ্যাকাউন্ট্যান্ট পদ না থাকা সত্ত্বেও শুধু অর্থের বিনিময়ে তিনি সংযুক্তি দিয়েছেন। সমবায় অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখায় শাখা প্রধান পদে দুজন কর্মরত থাকা সত্ত্বেও সেখানে দুজন উপসহকারী নিবন্ধককে সংযুক্তি প্রদান করেছেন।</p>
<p>ক্লার্ক পদোন্নতির জন্য লাখ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের উপসচিব ড. অশোক কুমার বিশ্বাস ও সিনিয়র সহকারী সচিব মো. আব্দুস সামাদ প্রধানকে তদন্ত করতে দেওয়া হয়। এই কমিটি ঘুষ-বাণিজ্যের প্রমাণ পায়। প্রশাসনিক কর্মকর্তা বাবলা দাশগুপ্ত ও আমিনুল ইসলাম নামে অফিস সহায়ককে দোষী সাব্যস্ত করে এবং ব্যাংক হিসাবে ঘুষের অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদন দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।</p>
<p>আশরাফুলের দুর্নীতি: নরসিংদী আঞ্চলিক সমবায় ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মো. আশরাফুল ইসলাম। নানা অপকর্মের কারণে সমবায়ের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা হিসেবে আশরাফুল ইসলাম পরিচিত। বিভিন্ন অনিয়ম করে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করার এই চিত্র তুলে ধরে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলেও ডিজির সঙ্গে সখ্য থাকায় তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি। ডিজির সিন্ডিকেট চক্রের অন্যতম হোতা আশরাফুল ইসলাম। তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে বদলি করা হয়। আশরাফুল নরসিংদী থাকাকালে ভুয়া ভোটার ও ক্ষমতার অপব্যবহার চুক্তিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন জিতিয়ে দেওয়া এবং নির্বাচনকালীন উন্নয়নের নামে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। এসব বিষয়ে তার নামে অধিদপ্তর, মন্ত্রণালয় এবং দুদকে অভিযোগও জামা পড়েছে।</p>
<p>সমবায়ের জেলা পর্যায়ের আরেক কর্মকর্তা মো. সাদ্দাম হোসেন। গোপালগঞ্জের বাসিন্দা হওয়ায় এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে সমবায় অঙ্গনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি জেলা সমবায় কার্যালয় (ঢাকা ও গাজীপুর) তার নিয়ন্ত্রণে রেখে দাপটের সঙ্গে স্বেচ্ছাচারিতা ও লুটপাট করেছেন। কথিত আছে, অনিয়ম থেকে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে ডিজিকে সব সময় টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে চলতেন।</p>
<p>বাবলা দাশগুপ্ত তার ছোট ভাই সঞ্জয় দাশগুপ্তকে ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়ে সমবায় অধিদপ্তরের সরেজমিন তদন্তকারী পদে চাকরি দিয়েছেন। এ বিষয়ে জেলা সমবায় কর্মকর্তা, ফেনী মো. গাজী সালাউদ্দিনকে তদন্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। গত বছরের জুলাই মাসে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। তদন্তে সঞ্জয় দাশগুপ্তের শিক্ষাগত যোগ্যতার জাল সনদের বিষয়টি প্রমাণিত হয়। তারপরও সঞ্জয় দাশগুপ্তের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উপরন্তু তাকে নিয়মিত বেতন-ভাতা দেওয়া হচ্ছে।</p>
<p>জেলা সমবায় কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম মো. মুরাদ আহমেদের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে এর আগে সমবায় অধিদপ্তরের সমিতি ব্যবস্থাপনা শাখা থেকে বিভাগীয় মামলার সুপারিশ করা হলেও ডিজি কোনো ব্যবস্থা নেননি।</p>
<p>সমবায় ভাবনার আলোকে সমবায় মডেল ভিলেজ স্থাপন নামক প্রকল্প পরিচালক ছিলেন যুগ্ম নিবন্ধক, মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তাকে সমবায় অধিদপ্তরের যুগ্ম নিবন্ধক (প্রশাসন, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও ফাইন্যান্স) পদে বসিয়েছেন বর্তমান নিবন্ধক ও মহাপরিচালক। আওয়ামী লীগ সরকারের লুটপাটের বড় প্রকল্প একটি বাড়ি একটি খামার। এই প্রকল্প পরিচালক হিসেবে উপনিবন্ধক (প্রশাসন) মো. আতিকুল ইসলাম একটানা ৫ বছর কর্মরত ছিলেন। অতিরিক্ত নিবন্ধক (প্রশাসন) হাফিজুল হায়দার চৌধুরীও সমবায় অধিদপ্তরের আর এক ব্যর্থ প্রকল্প ‘সুবিধাবঞ্চিত নারীদের জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প’-এর পরিচালক ছিলেন। তার সময়কালে প্রকল্পভুক্ত এলাকা খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলা থেকে ৩৩ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটে; কিন্তু তিনি অতিরিক্ত নিবন্ধক (প্রশাসন) পদে বসে তা ধামাচাপা দেন। এসব কিছু জেনেও মো. শরিফুল ইসলাম কোনো ব্যবস্থা নেননি।</p>
<p>সমবায় সমিতির আড়ালে আইনুদ্দিন হায়দার ওয়াকফ স্টেটের কালসী এলাকায় ২০০৬ সালে ২০ একর জমি ১৯ কোটি টাকায় লিজ নেন। এখনো সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করা হয়নি। লিজ নেওয়ার পরিকল্পনায় ছিল সমিতির তৎকালীন সভাপতি মুহাম্মাদ কবির মিয়া। আইনুদ্দিন হায়দার ও ফয়জুন্নেসা ওয়াকফ স্টেট বাউনিয়া প্রজা কল্যাণ সমবায় সমিতি লি. ২০০১ সালের নভেম্বরে ঢাকা জেলা সমবায় কার্যালয় থেকে নিবন্ধিত হয়। সমিতির উপ-আইনের ৪(১) ধারা অনুযায়ী সদস্যদের আর্থিক ও সামাজিক উন্নতি, পুঁজি গঠন ও বিনিয়োগের মাধ্যমে বাসস্থান, আর্থিক ও সামাজিক উন্নতি এবং ক্ষুদ্রঋণ বিনিয়োগ ও আদায়ের ব্যবস্থা করা; কিন্তু তার কিছুই হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের একটি রিট পিটিশন অনুযায়ী জানা যায়, এ জমির বিপক্ষে ধার্যকৃত মূল্য খুবই সামান্য। জমির লিজ প্রদানের ৬ ও ৮নং শর্ত ওয়াকফ অধ্যাদেশ-১৯৬২-এর পরিপন্থি এবং লিজ প্রক্রিয়া অবৈধ।</p>
<p>জানা যায়, সমিতি আইন-২০১৩ মেনে এ সম্পর্কিত কোনো সদস্য রেজিস্ট্রার, বার্ষিক, সাধারণ সভা ও সমিতির কোনো কার্যক্রম নেই। তারপরও জেলা সমবায় কার্যালয় ঢাকা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সমবায় অধিদপ্তরের লাইসেন্সকে ভিত্তি করে এ জমি ভোগ দখল করে যাচ্ছে বিভিন্ন সিন্ডিকেট ও প্রতারক চক্র। সর্বশেষ একটি গ্রুপকে এই সমিতির কমিটি গঠন করে দিয়ে প্রতারণার নতুন লাইসেন্স দেন সমবায় অধিদপ্তরের ডিজি মো. শরিফুল ইসলাম। যুবলীগের সদস্য মো. হিরন মিয়াকে দিয়ে এ কমিটি করার জন্য তৎকালীন জেলা সমবায় কর্মকর্তাকে চাপ দেন। আইনসংগত না হওয়ায় জেলা সমবায় কর্মকর্তা সরকারি কর্মচারীদের দ্বারা অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি প্রদান করেন। এতে ডিজি ক্ষিপ্ত হন। সমিতির আইনগত কোনো ভিত্তি না থাকায় সরকারি কর্মচারীরা সমিতিটি অবসায়নে দেওয়ার সুপারিশ করেন। ফলে প্রতারক গ্রুপকে নির্বাচিত করে প্রতারণার লাইসেন্স প্রদানের পথ বন্ধ হয়ে যায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ডিজি অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির সভাপতি মো. আব্দুর রাহমান, সদস্য মো. ইব্রাহীম খলিলুল্লাহকে বান্দরবান ও পটুয়াখালী বদলি করেন। পরে অন্তর্বর্তী কমিটির রিপোর্ট ও রক্ষিত ডকুমেন্ট অনুযায়ী তৎকালীন জেলা সমবায় কর্মকর্তা সমিতিটি অবসায়নে প্রদান করলে তাকেও ঠাকুরগাঁওয়ে বদলি করা হয়। অবসায়ন কার্যক্রমের কিছু আইনগত পদ্ধতি থাকলেও তার তোয়াক্কা না করে নিয়োগকৃত অবসায়ককে দিয়ে দায়সারা রিপোর্ট দাখিল করে জেলা সমবায় কর্মকর্তা অযৌক্তিকভাবে অবসায়ন আদেশ প্রত্যাহার করেন। পরে ডিজির পছন্দের অসদস্য দিয়ে সমিতির অন্তর্বর্তী কমিটি গঠন করে দেন। অবসায়ন আদেশ প্রত্যাহারের পত্রে দেখা যায় অবসায়ক বলেছেন, সমিতিতে একাধিক পক্ষ বিদ্যমান এবং এর কোনো কার্যালয় বা কার্যক্রম নেই। এজিএম না করে, পাতানো নির্বাচন করে সমিতির কমিটি করা হয়, যা চলমান।</p>
<p>অফিস ও কমিটি না থাকা সত্ত্বেও বাউনিয়া প্রজা কল্যাণ সমবায় সমিতি নির্বাচন করতে নির্দেশনা দেয়; কিন্তু তা না মানায় তিন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে—এ প্রশ্নের উত্তরে সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ফাইল না দেখে বলতে পারব না। বাউনিয়া সমিতির পুনর্বাসন করার কথা বলে বিভিন্ন মানুষের কাছে থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর উত্তরে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে জানা নেই। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ৫১১ জনকে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস ও নিয়োগ বাণিজ্য করায় এ নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। এর উত্তরে তিনি বলেন, হ্যাঁ, বাতিল করা হয়েছে। নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হবে। নভেম্বর ও ডিসেম্বর পরীক্ষা হতে পারে। সঞ্জয় দাশগুপ্ত জাল সনদ দিয়ে সমবায় চাকরি করছে তদন্তে প্রমাণিত হওয়ার পরও চাকরিতে বহাল আছেন—এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিজি বলেন, এসব ফাইল না দেখে বলতে পারব না।</p>
<p>এ ছাড়া বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত এবং প্রমাণিত হওয়ায় পর চাকরিতে বহাল আছেন—এর উত্তরে শরিফুল ইসলাম বলেন, যারা বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত এবং একই জায়গায় ৭-৮ বছর ধরে আছে, তাদের মধ্যে ৮০ শতাংশকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়েছে। এটাই তো একটা ব্যবস্থা।</p>
<p>সমবায় অধিদপ্তরের উপনিবন্ধক (প্রশাসন) আতিকুল ইসলাম বলেন, কেউ চাইলে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলতে পারে। আমার বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তরের অভিযোগ দেওয়া হয়েছে তদন্ত করে প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেবে। আমি কোনো পদবাণিজ্য নিয়োগ-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত নই।</p>
<p>সমবায় অধিদপ্তরের উপনিবন্ধক (প্রশাসন) আতিকুল ইসলাম বলেন, কেউ চাইলেই কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলতে পারে। আমার বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেবে। আমি কোনো পদবাণিজ্য ও নিয়োগ-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত নই।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://amadersomoy.net/archives/23560/feed</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
